মিশ্র ফল বাগানে মাল্টা চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়ে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ভিটি বাঘুন গ্রামের মো. জামির হোসেন। এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে তার মাল্টার বাগান।
জামির হোসেন জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আওতাধীন লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় ৭ বিঘা জমিতে ২০২০ সালে মাল্টা চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগ থেকে ৩০০ মাল্টার চারা দিয়ে বাগানের যাত্রা শুরু। পরে কাটিং কলমের মাধ্যমে চারার সংখ্যা বাড়ান। বর্তমানে ৭ শতাধিক বারি-১ জাতের মাল্টার চারা রয়েছে। মাল্টার সাইজ ছোট হলে ৬-৭টায় কেজি এবং সাইজ বড় হলে ৪টায় কেজি হয়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বছরে ৩ বার সার প্রয়োগ করতে হয়। টিএসপি, পটাশ, ইউরিয়া ও বোরন সার একসঙ্গে মিশিয়ে গাছের চারপাশের মাটিতে দিতে হয়। গত বছরের তুলনায় গাছ বেশ বড় হওয়ায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গাজীপুরের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জেলায় ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে মাল্টা চাষ হয়। মাল্টা শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। মাল্টা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি কৃষকদের।
গাজীপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, সবুজ রঙের বারি-১ জাতের মাল্টা গাছে মার্চ মাসের দিকে গাছে মুকুল আসে এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হতে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফলন শেষ হয়। মাল্টা একটি লাভজনক ফল হওয়ায় কৃষকরা মিশ্র ফল বাগানে মাল্টা চাষ করে থাকেন। লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে মাল্টার আবাদ করা হয়। তার মধ্যে বারি-১ বা পয়সা মাল্টা জাতের পরিমাণই বেশি।
সরেজমিন দেখা যায়, বাগানে সবুজ রঙের শত শত মাল্টা ঝুলে আছে। মাল্টা ছাড়াও বাগানজুড়ে রয়েছেÑবড়ই, পেয়ারা, লেবু, আমলকি, পেঁপে, জামবুড়া, কলাসহ বাহারি অনেক ফলের চারা। তবে সবচেয়ে বেশি রয়েছে বারি-১ জাতের মাল্টা চারা।
আরআর