গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে নতুন করে আরও ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। আক্রান্তদের কেউই এখনো সরকারি সহায়তায় ওষুধ পাচ্ছেন না। নিজ খরচে ওষুধ কিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের বেশিরভাগই বেলকা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের কারও হাতে, কারও শরীরে ফোসকা দেখা দিয়েছে।
আক্রান্ত মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরুর মাংস কাটতে গিয়েছিলাম। দুই দিন পর হাত ও চোখে ফোসকা হয়। হাসপাতালে গেলে ভর্তি নেয়নি, ওষুধ লিখে দিয়েছে। এখন প্রতিদিন ১০০ টাকার ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে।’
স্থানীয় আরও কয়েকজন জানান, ২০ দিনের ওষুধের খরচ প্রায় ৩ হাজার টাকা, যা তাদের পক্ষে বহন করা কঠিন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, ‘রোগীদের মধ্যে কেউ গুরুতর নয়। বেশিরভাগ রাতে আসায় ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে ১০ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দে জানান, আক্রান্ত এলাকায় গরু-ছাগলকে অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পরীক্ষায় দুটি গরুর দেহে অ্যানথ্রাক্স জীবাণু পাওয়া গেছে।
রোজিনা বেগম নামের এক নারী অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেলেও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, তার মৃত্যু অ্যানথ্রাক্সে হয়নি।
এদিকে আক্রান্ত এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত সরকারি পর্যায়ে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ না করলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সময়ের আলো/এআর