রক্তনদী পেরিয়ে যুদ্ধবিরতি

সময়ের আলো ডেস্ক

প্রথম পাতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের জন্য তার পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে একমত হয়েছে হামাস ও

2025-10-09T23:55:12+00:00
2025-10-09T23:56:37+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা
রক্তনদী পেরিয়ে যুদ্ধবিরতি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫৫ পিএম  আপডেট: ০৯.১০.২০২৫ ১১:৫৬ পিএম  (ভিজিট : ১৮৩)
গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তিতে গতকাল স্বাক্ষর করেছে হামাস ও ইসরাইল। এর পরপরই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আনন্দ মিছিল বের করেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসী। আলজাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের জন্য তার পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে একমত হয়েছে হামাস ও ইসরাইল। এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে দুপক্ষ। এর ফলে প্রথম পর্যায়ে ৬ সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলো। এর পরপরই গাজাবাসী ও ইসরাইলিদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ইসরাইল এবং হামাস উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, শিগগির সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরাইল একটি নির্দিষ্ট সীমানায় তাদের সৈন্যদের প্রত্যাহার করবে। মধ্যস্থতাকারী বলেছেন, চুক্তির আরও বিস্তারিত পরে ঘোষণা করা হবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারী সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা ঘোষণা করছেন যে, আজ রাতে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ের সব বিধান এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। ফলে যুদ্ধের অবসান, ইসরাইলি জিম্মি এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে ঘোষণা করা হবে। আলজাজিরা, গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও বিবিসি।

ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি অথবা অন্তত একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির বিস্তারিত ও ধাপগুলো এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কিন্তু ইসরাইল ও হামাসের পারস্পরিক সম্মতির ঘোষণাটি তাৎপর্যপূর্ণ। আরব দেশগুলো ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে হওয়া এই উদ্যোগ এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সুযোগ। মার্চ মাসে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আগে ও পরে গাজায় যে বিধ্বংসী যুদ্ধ চলছে, তাতে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক।

চলতি বছরের মার্চের পর থেকে একাধিকবার সম্ভাব্য চুক্তির গুঞ্জন শোনা গেলেও, কোনো উদ্যোগই এতটা কাছে পৌঁছায়নি। ট্রাম্প বুধবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে যে শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ ঘোষণা করেছেন, তা সরল মনে হলেও বাস্তবায়ন কঠিন। সেই ধাপে হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরাইলি সেনারা সীমিতভাবে গাজা থেকে সরে আসবে। তবে সব জিম্মিকে খুঁজে বের করা এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সমন্বয় করাই সবচেয়ে জটিল কাজ। ট্রাম্পের স্টাইল অনুযায়ী বড় বড় বুলি ছেড়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, শিগগিরই সব জিম্মি মুক্তি পাবে, ইসরাইল তাদের সৈন্যদের একটি নির্ধারিত সীমারেখা পর্যন্ত সরিয়ে নেবে- এটাই হবে এক শক্তিশালী, টেকসই এবং স্থায়ী শান্তির প্রথম ধাপ। সবাই ন্যায্য আচরণ পাবে!

তবু আলোচনার বাইরে অনেক কিছুই রয়ে গেছে। প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা মূলত যুদ্ধবিরতির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা। কিন্তু হামাসের ভবিষ্যৎ, তাদের অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না, কিংবা ইসরাইল গাজার ভবিষ্যৎকে কেমন দেখতে চায় এসব কঠিন প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। এর আগেও এমন চেষ্টা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শপথ নেওয়ার আগেই যুদ্ধ শেষ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে; কিন্তু জানুয়ারিতে তাড়াহুড়ো করে করা যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায় মূলত জিম্মি মুক্তি নিয়ে মতবিরোধের কারণে।

তবু এবার পরিস্থিতি আলাদা। মার্কিন সময় বুধবার বিকেলে ট্রাম্প যখন একটি অ্যান্টি-অ্যান্টিফা গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার হাতে একটি চিরকুট দেন। তাতে লেখা ছিল, খুব কাছাকাছি এসেছি। আপনাকে দ্রুত অনুমোদন দিতে হবে, যাতে আপনি প্রথমেই ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তির ঘোষণা দিতে পারেন।

গাজার যুদ্ধ হয়তো কখনোই অসলো- ধরনের শান্তিচুক্তি বা দীর্ঘ রাজনৈতিক আলোচনায় শেষ হবে না। এই সময়টা আলাদা। একজন খামখেয়ালি কিন্তু প্রভাবশালী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের অপ্রত্যাশিত আচরণ দিয়ে মিত্র ও প্রতিপক্ষ উভয়কেই অস্থির করে রাখছেন। ট্রাম্পের আরেকটা বড় প্রেরণা হলো ওবামার পর প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা।

এই পুরস্কার শুক্রবার ঘোষণা হওয়ার কথা, আর অনেকের মতে ট্রাম্পকে একটি ‘জয়’ দিতে চাওয়াই ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক হিসাবকে প্রভাবিত করছে। তবে উত্তেজনা রয়ে গেছে। হামাস ট্রাম্প ও অন্যান্য পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে, ‘ইসরাইল যেন চুক্তির সব শর্ত পুরোপুরি মানে, তা নিশ্চিত করতে।’ তাদের আশঙ্কা- জিম্মি মুক্তির পর ইসরাইল আবারও হামলা শুরু করতে পারে। হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা কখনো আমাদের জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের লড়াই ছাড়ব না। ইঙ্গিতটি স্পষ্ট; তারা এখনও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছে, যা নেতানিয়াহু প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং হোয়াইট হাউসও কার্যত পাশ কাটিয়েছে।

নেতানিয়াহুরও রাজনৈতিক হিসাব আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়েছেন যে, সরকার বৈঠক ডেকে চুক্তি অনুমোদন করবে এবং তাদের প্রিয় সব জিম্মিকে ঘরে ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু তার জোটের ডানপন্থি সহযোগীরা যেমন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি হলে তারা সরকার ছাড়বেন।

ট্রাম্প এসব বাধা ভাঙতে শক্ত ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি শান্তির পথে বাধা আসে, তা হলে ‘গাজায় নরক নেমে আসবে।’ নেতানিয়াহু যখন চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, তখন ট্রাম্প বারবার তাকে বলেন, তুমি সবসময় এত নেতিবাচক কেন... এটা একটা বিজয়। গ্রহণ করো।

আরও পড়ুন


খবরে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প এই সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছেন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য। এটাই তার বড় মুহূর্ত। আর যুদ্ধবিরতি ধরে রাখতে হলে তাকে নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব ও রাজনৈতিক নাটকীয়তার সবটুকু কাজে লাগাতে হবে। না হলে আরেক দফা যুদ্ধ ও তার প্রশাসনের কূটনৈতিক ব্যর্থতা- দুটোরই ঝুঁকি আছে সামনে।

গাজা ও ইসরাইলে উচ্ছ্বাস : ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষরের খবরে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। কেউ খুশিতে কাঁদছেন-হাততালি দিচ্ছেন, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছেন, কেউ গান গাইছেন, নাচানাচি করছেন এবং চিৎকার করে বলছেন ‘আল্লাহু আকবর’। ৫ সন্তানের মা ঘাদা এই খবর শোনার পর থেকে কাঁদছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি কাঁদছি; কিন্তু এটা আনন্দের অশ্রু। মনে হচ্ছে, নতুন করে আবার আমাদের জন্ম হলো। আশা করছি, এই ভয়াবহ যুদ্ধের শেষ হচ্ছে। ঘাদা জানান, গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। যে বাড়িতে তারা থাকতেন, সেটি ইসরাইলি বাহিনীর বোমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর গত ১৫ মাস ধরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ তাঁবুতে বসবাস করছেন ঘাদা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় বিকালে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দফতর হোয়াইট হাউসে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইল ও মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ মিসর ও কাতার সম্মতি দিলেও হামাস তখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পরে ৩ অক্টোবর শুক্রবার হামাস সম্মতি জানানোর পরের দিন ৪ অক্টোবর ইসরাইলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। তার পর ৬ অক্টোবর মিসরের লোহিত সাগর তীরবর্তী পর্যটন শহর শার্ম আল শেখে ট্রাম্পের প্রস্তাবের ওপর বৈঠক শুরু হয় ইসরাইল, হামাস, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে।

সেই বৈঠকে দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলার পর গতকাল রাতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রাথমিক পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে ইসরাইল-হামাস। এই পর্যায়টির স্থায়িত্ব হবে ৬ সপ্তাহ। এই ছয় সপ্তাহে নিজেদের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এর পরিবর্তে ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ, ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। চুক্তি স্বাক্ষরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল রাতেই আনন্দ মিছিল বের করেন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের বাসিন্দারা। কিশোর তরুণরা বাঁশি-খঞ্জনি-ড্রাম বাজিয়ে, নেচে গেয়ে উল্লাস শুরু করেন।

ইমান আল কৌকা নামের এক তরুণী এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রয়টার্সকে তিনি বলেন, আজ আমাদের আনন্দের দিন, আজ আমাদের দুঃখেরও দিন। এটা এমন দিন যার জন্য আমরা হাসব। আবার যুদ্ধে আমরা যাদের হারিয়েছি, যা যা হারিয়েছে সেসব স্মরণ করে কাঁদব। আমরা শুধু আমাদের বন্ধু, স্বজন এবং বাড়িঘরই হারাইনি। আমরা আমাদের শহর হারিয়েছি। এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরাইল আমাদের প্রাগৈতিহাসিক আমলে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরাইলি বাহিনীর বোমায় বাড়িঘর হারিয়ে গত বছর খান ইউনিসের দেইর আল বালাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন গাজার অপর বাসিন্দা আহমেদ দাহমান। রয়টার্সকে তিনি জানান, ইসরাইলি বাহিনীর বোমার আঘাতে বাড়িঘরের পাশাপাশি নিজের বাবাকেও হারিয়েছেন তিনি; কিন্তু তাকে দাফন করতে পারেননি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাবার মরদেহ রেখেই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে হয়েছে তাদের। রয়টার্সকে দাহমান বলেন, অবশেষে গাজায় রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে এবং আমাদের জীবন রক্ষা পাচ্ছে- এটা আনন্দের খবর। তবে আমি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত। আমরা যখন ফিরব, তখন দেখব যে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। আমার বাবার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের তলায় রেখে পালাতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে আমার প্রথম কাজ হবে বাবার দেহাবশেষ খুঁজে বের করে তার দাফন সম্পন্ন করা। আহমেদ দাহমানের মা বুশরা বলেন, এ যুদ্ধবিরতি আমার স্বামীকে ফেরত দিতে পারবে না। কিন্তু অন্তত অনেকের জীবন রক্ষা পাবে। আমি কাঁদব, এমন কান্না যা এর আগে কখনো, কোনোদিন কাঁদিনি। এই নিষ্ঠুর যুদ্ধ আমাদের কাঁদার সময় দেয়নি।

গাজা পুনর্গঠনে লাগবে ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি : দখলদার ইসরাইলের বর্বর হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে ৬৭ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। তাদের হামলায় আহত হয়েছে আরও ২ লাখ ফিলিস্তিনি। হাজার হাজার মানুষকে হত্যার সঙ্গে গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরাইলিরা। উপত্যকার প্রায় বেশিরভাগ বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ কোনো কিছু বাদ দেয়নি ইসরাইল। সেখানে এতটাই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যে গাজা পুনর্গঠনে ৫২ বিলিয়ন ডলার লাগবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের প্রজেক্ট সার্ভিস অফিসের পরিচালক জোর্গে মোরেইরা দা সিলভা। যা বাংলাদেশি অর্থে ৬ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি জানান, গাজার ৮০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধ শেষ হলে প্রথমে ধ্বংসস্তূপ সরানোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হামাস-ইসরাইলের সংলাপকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ : এদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, কূটনীতি ও সংলাপই যেকোনো সংঘাত সমাধানের একমাত্র উপায়। গাজা সংকটের অবসান ঘটাতে এ গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগকে সহজ করার জন্য সব অংশীদারদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ঢাকা। বাংলাদেশ আশা করে, এই প্রক্রিয়াটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা পুনরুদ্ধার এবং গাজার জনগণের বিশাল দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আশা করে, সংলাপের মাধ্যমে গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করবে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ গাজায় শান্তি বজায় রাখতে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে প্রস্তুত। ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রতি অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে ঢাকা, যার মধ্যে পূর্ব জেরুজালেম হবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   যুদ্ধবিরতি  হামাস  ইসরাইল 


Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: