জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হবে ১৫ অক্টোবর

রফিকুল ইসলাম সবুজ

প্রথম পাতা

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ আগামী ১৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত হবে। ঐতিহাসিক এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তী

2025-10-10T03:01:56+00:00
2025-10-10T03:01:56+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা
জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হবে ১৫ অক্টোবর
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:০১ এএম 
ফাইল ছবি
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ আগামী ১৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত হবে। ঐতিহাসিক এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সনদ স্বাক্ষরের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদও শেষ হবে ১৫ অক্টোবর। তার আগে আগামী রোববার নাগাদ সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকায় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট কী সংসদ নির্বাচনের দিনে হবে, নাকি এর আগে হবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নিজেদের সুপারিশে রাখতে চাইছে না জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। গণভোটের সময়ের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

কমিশন সূত্র জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সুপারিশ নিয়ে বৃহস্পতিবার কমিশনের বৈঠকে গণভোট কীভাবে হবে, তা নিয়ে একাধিক প্রস্তাব থাকলেও অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে গণভোটের আগে অধ্যাদেশ জারির সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। গণভোটে কয়টি প্রশ্ন হবে, তা নিয়ে একাধিক প্রস্তাব থাকলেও সর্বশেষ তিনটি প্রশ্ন রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রথমে জুলাই সনদে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। অনেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে এমন প্রস্তাবগুলো না রাখার দাবি জানান। পরে দুটি প্রশ্ন রাখার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সে ক্ষেত্রে গণভোটে ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে একটি প্রস্তাব এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকা বিষয়গুলো নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন রাখার প্রস্তাব করা হয়। তবে সর্বশেষ রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন রাখার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করে তা দুয়েক দিনের মধ্যেই তা সরকারের কাছে পাঠাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সে ক্ষেত্রে সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সুপারিশ করা হলেও সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে একক সিদ্ধান্ত থাকছে না। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, এ দুটি প্রস্তাবই থাকতে পারে কমিশনের সুপারিশে। এ ছাড়া গণভোটে তিনটি প্রশ্ন থাকার সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। পরে এসব বিষয়ে সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী ১৫ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত হলেও সনদ স্বাক্ষরের জন্য এখনও দলীয় প্রতিনিধির নাম পাঠায়নি এক-চতুর্থাংশ দল।

কমিশনের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের ৫টি বৈঠকে প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, বিশেষজ্ঞরা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া অভিমতগুলো বিশ্লেষণ করে শিগগিরই বাস্তবায়নের উপায়সংক্রান্ত সুপারিশ এবং চূড়ান্ত করা জুলাই সনদ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। 

সূত্র জানায়, নতুন করে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কারণ সংরক্ষিত নারী আসনের ন্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন হলে তা বিশেষ কোনো সুফল বয়ে আনবে না বরং তা রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে গণভোটে পৃথক প্রশ্ন রাখা হতে পারে। অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ৯টি প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে উচ্চকক্ষ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রয়েছে।

বৈঠকে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার অংশ নেন। 

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার জানান, বৈঠকে গণভোটের আইনি ভিত্তি ও কী প্রশ্ন থাকবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কমিশন সদস্যরা এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর এ সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হলেও গণভোট কখন ও কীভাবে হবে তা নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। তারা এ বিষয়ে কমিশনকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দিয়েছে। কমিশন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, এ দুটি প্রস্তাবকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। 

এদিকে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সিদ্ধান্ত হলেও সেই গণভোট কবে ও কীভাবে হবে, তা নিয়ে গত বুধবার দীর্ঘ আলোচনা করেও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাবে অনড় রয়েছে বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল আগামী নভেম্বরে গণভোট দাবি করেছে। দীর্ঘ বিতর্কের পর রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দিয়েছে। 

জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট দেওয়ার পক্ষে মত তুলে ধরে বিএনপি। বুধবার আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময় বাকি আছে। এর আগে গণভোটের মতো মহাযজ্ঞ আয়োজন করা সম্ভব নয়। এতে অতিরিক্ত অর্থও খরচ হবে। তারা মনে করেন, আগে গণভোট করার প্রস্তাব জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রয়াস হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে সংবিধান আদেশ বা এ ধরনের কোনো আদেশ নয় বরং একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা যায়। সেটার নাম আদেশ হতে পারে। তার ভিত্তিতে গণভোটের জন্য একটি নতুন আইন অধ্যাদেশ আকারে করা যায়। গণভোটে জুলাই সনদ পাস হলে তা বাস্তবায়ন করা আগামী সংসদের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। আগামী সংসদ জুলাই সনদের বাইরে সংস্কার করতে পারবে না তা নয় উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতেই হবে। প্রয়োজনে আরও সংশোধনী আনতে পারবে।

এবি পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাসদ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে পৃথক ব্যালটে গণভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আলোচনায় বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বা মধ্যভাগে গণভোট হতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিন গণভোট হলে কিছু জটিলতা তৈরি হবে। তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলো সনদ থেকে বাদ দিয়ে গণভোট দিলে তা ঠিক হবে না। কোনো দলের মতামত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। 

এর আগে জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট করা যায়, এমন মত দিলেও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে এনসিপি এখন বলছে, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট হতে হবে। আর গণভোট করতে হলে তার আগে একটি আদেশ জারি করতে হবে। এ ছাড়া আগামী সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা পালনের ক্ষমতা দিতে হবে।

এ ছাড়া গণভোটের সময় সম্পর্কে কমিশন সূত্র জানায়, তাই নির্বাচন কমিশন ও সরকার আলোচনা করে গণভোটের যৌক্তিক সময় ঠিক করতে পারে। ঐকমত্য কমিশন যদি ভোটের সুনির্দিষ্ট সময় বলে দেয়, তাহলে তা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর এক ধরনের চাপ বলে মনে হতে পারে। এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আগামী ১৫ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। এর আগেই কমিশন জুলাই সনদের বাস্তবায়নের উপায় সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেবে। সেখানে বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত থাকবে।’ বিএনপিসহ কয়েকটি দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোটের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি দল চায় জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট হোক। 

প্রসঙ্গত, গত ৫ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নে ‘গণভোট’ প্রশ্নে একমত হয় রাজনৈতিক দলগুলো। তবে ভোটের সময় ও কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াও বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ করে কমিশন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করে কমিশন। ছয় মাস মেয়াদের কমিশন ১৫ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় মেয়াদ ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরও দ্বিতীয় দফায় কমিশনের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে ১৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। 

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   জুলাই সনদ  প্রধান উপদেষ্টা  ঐকমত্য কমিশন 


Loading...
Loading...
প্রথম পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: