মাদারীপুরে আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী দীপ্তিকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ইজিবাইক চালক মো. সাজ্জাদ হোসেন খানকে (৫০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ এ এম রেজা জাকের এ রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাজ্জাদ হোসেন মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব খাগদী এলাকার সিরাজুল ইসলাম খানের ছেলে। সাজ্জাদ পূর্বে শিশুহত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। ২০১১ সালে মুক্তি পান তিনি।
মামলা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই মাদারীপুর শহরের পূর্ব খাগদী এলাকার একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহতের বাবা মজিবর ফকির লাশটি তার মেয়ে দীপ্তি (১৫) এর বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় মজিবর ফকির বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নামে র্যাব -৮। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ জুলাই বৃষ্টির দিনে দীপ্তি চরমুগরিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজ্জাদ হোসেনের ইজিবাইকে ওঠেন। গাড়িতে আর কোন যাত্রী না থাকায় সাজ্জাদ জোর করে দীপ্তিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। মরদেহ বিদ্যুতের তার দিয়ে বেঁধে কয়েকটি ইটসহ পুকুরে ফেলে দেন। পরে ১৩ জুলাই পুকুরে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী।
নিহত দীপ্তির বাবা মজিবর ফকির বলেন, আমার মেয়ের হত্যাকারীর আজ ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছি।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শরীফ সাইফুল কবীর। তিনি বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস একটি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা। দীর্ঘ ছয় বছর বিচারের কার্যক্রম শেষে আদালত অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট।
প্রসঙ্গত, নিহত দীপ্তি মাদারীপুর সদর উপজেলার চরনচনা গ্রামের মজিবর ফকিরের মেয়ে। সে একই গ্রামের বলাইরচর শামসুন্নাহার বালিকা মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এফআর