বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশফাঁড়ি সীমান্তে ফের তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির শব্দে সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি এলাকার ৩৬ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন মিয়ানমার অভ্যন্তরে এ গোলাগুলি ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমার অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও হিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে সংঘর্ষের জেরে এ গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসতে পারে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম স্থানীয়দের বরাতে জানান, সোমবার রাতে তার ওয়ার্ডের বাইশফাঁড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে আকস্মিক ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসতে শুরু করে। প্রায় ৩০ মিনিটে অন্তত ২০০ রাউন্ড গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ভীতির সৃষ্টি হয়। এ সময় কেউ কেউ নিজ বাড়িতে নিরাপদে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে সজাগ থেকে রাত পার করে স্থানীয়রা।
তিনি আরও বলেন, রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আরসা, আরএসও, এআরএ ও ইসলামী মাহাসসহ রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে আরাকান আর্মির একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এখনও সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলমান রয়েছে।
এদিকে, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার অভ্যন্তরে সংঘটিত গোলাগুলির শব্দ শোনার বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন বিজিবির কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম।
তিনি বলেন, রাতে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসার খবরটি শুনে সীমান্ত পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছি। এটা মিয়ানমার অভ্যন্তরে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাতের জেরে ঘটতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়ে লে. কর্নেল খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তে বিজিবির সতর্কতার সাথে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এপারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এফআর