জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালানো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোস্তফা কামাল টিপুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সিএমপির জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেসময় ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। টিপুর মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্র সহ গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতারের পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয় এবং বিভ্রান্তিকর কথা বলতে থাকে। পরে উপস্থিত মিডিয়া কর্মী ও স্থানীয় লোকজনের সামনে তার অফিস তল্লাশি করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ সময় অফিসের সিলিংয়ের উপরে কৌশলে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় একটি কাঠের বাটযুক্ত দেশীয় তৈরি ১৭ ইঞ্চি লম্বা দো-নলা বন্দুক। তার সেক্রেটারিয়েট টেবিলের ডান পাশের ড্রয়ার ও পাশে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের মোট ৫৬ রাউন্ড বুলেট, ৪টি ১২ বোর কার্তুজসহ বিভিন্ন ধরনের কার্তুজ।
প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। পরে অবশিষ্ট অস্ত্র ও গুলি সে অফিসে লুকিয়ে রাখে এবং বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি জব্দ করে তার বিরুদ্ধে ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী বাবুল আজাদ বলেন, ‘অভিযানে টিপুর কার্যালয় থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চার ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘টিপুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা আছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টিপুর প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ আছে। ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর প্রকাশ্যে আসেন। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।’
জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা টিপু নগরীর আগ্রাবাদ নাজিরপাড়া মগপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। এক সময় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছিলেন। পরে তিনি বন্দর-পতেঙ্গা এলাকার আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফের অনুসারী হন। জুলাই আন্দোলনের সময় পলাতক সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবেও পরিচয় দিতেন।
সময়ের আলো/ কেএইচও