মানিকগঞ্জে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিংগাইরের জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষে ঢুকে এক সহকারী শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনার বিচার দাবিতে স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ পালন করে শিক্ষার্থীরা। পরে হেমায়েতপুর–সিংগাইর–মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। এসময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের স্যারকে যারা মেরেছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি না দিলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে বিএনপি নেতা ও জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খান হাবিবুল আলম মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত স্কুলটিতে যায়। এসময় শিক্ষক প্রতিনিধি প্রার্থী মো. করম আলীর পক্ষে সমর্থন আদায়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল রোমানের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর চায় তারা। তবে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই শিক্ষককে মারধর করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলায় অংশ নেয় স্থানীয় সাদ্দাম, দেলোয়ার, পিন্টু, আতিক, তারা মোল্লা ও রাতুলসহ আরও কয়েকজন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক হাবিবুল্লাহ বলেন, বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ২৫–৩০ জন বহিরাগত স্কুলে ঢুকে শিক্ষক রোমানকে মারধর করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিদুর রহমান বলেন, শিক্ষককে শ্রেণীকক্ষে মারধর করার মতো জঘন্য ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রতিনিধি প্রার্থী মো. করম আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
একই সুরে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান খান মো. হাবিবুল আলম মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটি আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে ইমেজ নষ্টের ষড়যন্ত্র।
সিংগাইর থানার ওসি জেওএম তৌফিক আজম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এফআর