বাসে চড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন মোবাইল টেলিকম ব্যাংকিং ব্যবসায়ী মো. সজীব হোসেন (২৭)। পথে বাসটির গতিরোধ করে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস। বাস থামিয়ে সজীবকে হাতকড়া পরিয়ে নামিয়ে নিজেদের মাইক্রোবাসে তুলে নেন র্যাবের পোশাক (কটি) ও সিভিল পোশাকে থাকা চার ব্যক্তি। পরে সজীবের চোখে গামছা বেঁধে মারধর করে তারা। ছিনিয়ে নেয় তার সঙ্গে থাকা ২৫ লাখ টাকা।
এমনই এ নাটকীয় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ। এ ঘটনায় র্যাব-১১ এর অধিনায়ক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সজীব হোসেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম।
এর আগে গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম অংশে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে সজীব হোসেন কালো রঙের একটি ব্যাগের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা নিয়ে গুলিস্তান হতে স্বদেশ পরিবহনে চড়ে মদনপুরস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পরে দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জের চিটাগাংরোড সংলগ্ন সাজেদা ফাউন্ডেশনের সামনে পৌঁছালে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস ভুক্তভোগীকে বহন করা বাসটির গতিরোধ করে সামনে ব্যারিকেড দেয়।
এসময় মাইক্রোবাসে থাকা অজ্ঞাত পরিচয়ের চার ছিনতাইকারী ভুক্তভোগীকে বাস থেকে হাতকড়া পরিয়ে নামিয়ে নিজেদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। ছিনতাইকারী দলের মধ্যে দুজন র্যাবের পোশাক (কটি) ও দুজন সিভিল পোশাকে ছিল। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সজীবের চোখে গামছা বেঁধে মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সজীব হোসেন জানান, দুর্বৃত্তরা আমাকে মারধর করার পর দুপুর ১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক ক্যানালপাড় এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, ছিনতাইয়ের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নাঈম-উল হক বলেছেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের একটি টিম কাজ করে যাচ্ছে, আমরা তদন্ত করছি।
এফআর