বিয়ের প্রলোভনে এক হিন্দু তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চর সাউথখালী এলাকার আলী হাওলাদার (১৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বিয়ের দাবিতে গত নয়দিন যাবৎ অভিযুক্ত প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে ভুক্তভোগী ওই তরুণী। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার নানদোয়হান গ্রামের নারায়ণ মণ্ডলের মেয়ে সঞ্চিতা মণ্ডল (২৫) দুই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে চর সাউদখালী গ্রামের কবির হাওলাদারের ছেলে আলী হাওলাদারে সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। সম্পর্কের দুমাস পর আলীর বিয়ের আশ্বাসে সঞ্চিতা কোর্টের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
সঞ্চিতা মণ্ডলের অভিযোগ, অভিযুক্ত আলী বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রেমের সম্পর্কের সুযোগে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তোলেন। তবে পরিবার রাজি না হওয়ায় বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান আলী এবং সম্প্রতি ভারতে চলে যায় সে। এরপর থেকে সঞ্চিতার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আলী।
এসব ঘটনায় কোনো উপায় না পেয়ে গত ১ নভেম্বর বিকেলে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে সঞ্চিতা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনশনরত তরুণীকে দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান তারা।
অনশনরত সঞ্চিতা মণ্ডল বলেন, আমি একটি এনজিওতে চাকরি করি। ফেসবুকে আলীর সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এখন বিয়ে না করলে আমার জীবনের কোনো অর্থ থাকবে না। হয় বিয়ে, না হয় আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।
অভিযুক্ত আলীর মা রেশমা বেগম বলেন, ছেলে এখন ভারতে আছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যদি বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে মেয়েকে বউ হিসেবে ঘরে রাখব।
অভিযুক্ত প্রেমিক আলী হাওলাদারের ভারতীয় মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ইন্দুরকানী থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোস্তফা জাফর বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তবে এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফআর