দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের ভবিষ্যৎ টেকসই করার লক্ষ্যে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) ‘কক্সবাজারের জন্য দায়িত্বশীল পর্যটন: চর্চা, সুশাসন ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক সেমিনারটি ওশান প্যারাডাইস হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘কক্সবাজারে নারী ও যুবকদের জন্য দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ উন্নতকরণ (আইএসসি)’ প্রকল্প এবং এনরুট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এতে সহায়তা করে। এসময় বিভিন্ন নিতিনির্ধারক, বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দ, পর্যটন পেশাজীবী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জেলার পর্যটন বৃদ্ধির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জলবায়ু-সহনশীল পর্যটন পরিবেশ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের অতিরিক্ত সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুঝাত ইয়াসমিন পরিবেশ সুরক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রকৃতির ক্ষতি করে পর্যটনকে বাঁচানো সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো- এমন পর্যটন গন্তব্য তৈরি করা, যা হবে পরিবেশ-বান্ধব এবং সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পর্যটন খাতে স্থানীয় নারী ও যুবকদের জন্য ‘সফট স্কিল’-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে প্রশিক্ষিতদের জন্য শ্রমবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে নিয়োগের আহ্বান জানান।
সেমিনারের দুটি উচ্চ-পর্যায়ের প্যানেল আলোচনা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রথম অধিবেশনে ‘পর্যটন খাতে উপযুক্ত কাজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়ন’ নিয়ে আলোচনা করেন শেয়ারট্রিপের সিইও সাদিয়া হক, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অফ কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাহানারা ইসলামসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা। বক্তারা পর্যটনকে একটি সম্মানজনক ও লিঙ্গ-ভারসাম্যপূর্ণ পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘জলবায়ু-সহনশীল গন্তব্য তৈরি’ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শোয়েব উর রহমান এবং রাখাইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি মং আয়ে খেনসহ বিশেষজ্ঞা উপস্থিত ছিলেন। তারা টেকসই পর্যটন সুশাসনের জন্য স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান এবং সম্প্রদায়ের অভিযোজনমূলক পদ্ধতি অত্যন্ত জরুরি বলে মত দিয়েছেন।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন একটি পর্যটন খাত গড়ে তোলার প্রতি সংস্থার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তার ধারণা, এর মাধ্যম উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের আওতা বাড়বে। এনরুট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের এমডি ও সিইও আবু দাউদ খান জলবায়ু-সহনশীল গন্তব্য ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
সেমিনারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের তৈরি পরিবেশবান্ধব আতিথেয়তা পণ্য, স্থানীয় স্যুভেনিয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রদর্শনী। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি হয়।
এসকে/