মৌসুম পরিবর্তনের শুরুতে খাগড়াছড়িতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। এতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত একমাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০ শিশু।
শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় ৪ থেকে ৫ গুণ অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকরা।
এদিকে হাসপাতালের বর্হি-বিভাগেও নিয়মিত রোগীর বাড়তি চাপ সামলাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আক্রান্ত শিশুদের অনেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন। কারো কারো ক্ষেত্রে সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, খাগড়াছড়িতে দিনে গরম কমেছে তবে রাতে কুয়াশায় ডেকে যাচ্ছে শহর পাশাপাশি শীত অনুভূত হচ্ছে। গেলো কয়েকদিন ধরে ঠান্ডার সংমিশ্রণে শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছে। নিউমোনিয়া উৎসর্গ নিয়ে অনেকে সদর হাসপাতালে আসছেন।
চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালের আউটডোর ও ইনডোরে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও শিশুদের ঠিকমতো যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে ষাট থেকে সত্তর শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে খারাপ অবস্থায় শিশুদের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত একমাসে ঠান্ডাজনিত ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তে মারা গেছে ১০ শিশু। হাসপাতালের শিশু শয্যা সংখ্যা ২০ টি তবে রোগীর সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ জন। শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকছে হাসপাতালে, এতে জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের ফ্লোরে ও বারান্দায়।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ইনচার্জ প্রিয়াংকা ভৌমিক বলেন, ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ অনেক। সেবা দিতে গিয়ে নার্সরা হিমশিম খাচ্ছে। হাসপাতালে শয্যা সংকট রয়েছে। ৩ থেকে ৪ গুণ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ওমর ফারুক বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি, জ্বর, সর্দি, নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে আসছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় বেশ কষ্টকর হয়ে উঠছে সেবা প্রদানে।
খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। নিউমোনিয়া ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আমাদের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চটা দিয়ে সেবা প্রদান করছে। ১০০ শয্যার জন্য চিকিৎসক থাকার কথা ৬১ জন, তার মধ্যে ৩৭ জন চিকিৎসক সংকট রয়েছে। বর্তমান ২৪ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালটি প্রশাসনিকভাবে ২৫০ শয্যায় উন্নতি করা হলেও অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার চিকিৎসা পদায়ন দেওয়া হয়নি। ২৪ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা প্রদান করা হচ্ছে ২৫০ শয্যার রোগীকে। পাশাপাশি ইনডোর এবং আউটডোর মিলে অন্তত ১ হাজার রোগীর চিকিৎসা প্রদান করছে চিকিৎসকরা।
সময়ের আলো/এআর