চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়কের হাটহাজারী চৌধুরীহাট ফতেয়াবাদ ডিগ্রি কলেজের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে এবং মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস. এম. ফজলুল হকের অনুসারীরা।
শুক্রবার বিকালের দিকে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পরিবর্তন করে ফজলুল হককে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে তাদের সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পরিবর্তন করে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এস. এম. ফজলুল হককে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার বিকেল ৪টায় ফতেয়াবাদ স্কুল মাঠে সমাবেশ ডাকা হয়। তবে উত্তর হাটহাজারী এলাকা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আসার পথে মীরের হাটসহ বিভিন্ন স্থানে ফজলুল হকের অনুসারীদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং তাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চৌধুরীহাটে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে দুই পাশেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব আলম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম-৫ আসনে ঘোষিত প্রার্থী জনগণের মনপুত নয়। ওই প্রার্থীকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত নেতা এস. এম. ফজলুল হককে মনোনয়ন দেওয়া হলে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে।
তিনি অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এ কারণেই জনতা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়।
উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ইলিয়াস আলী বলেন, গত ৩০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে ত্যাগ স্বীকার করা নেতা ফজলুল হকের মনোনয়ন দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। কিন্তু প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া মীর হেলালের অনুসারীরা আমাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে ও নেতাকর্মীদের আহত করেছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন (চেয়ারম্যান) বলেন, মীরের হাটে তাদের উপর কোনো প্রকারের হামলা হয় নি। আজ (শুক্রবার) হাটহাজারী মাদ্রাসা বার্ষিক সভা চলছে। এই সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে হাজার হাজার মুসল্লী এসেছে। এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে দলের দুঃসময়ে পাশে না থাকা ফজলুর হককে মনোনয়ন দেওয়ার অবান্তর দাবী নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগের সাথে চৌধুরী হাটে এবং সরকার হাটে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে করে হাজার মুসল্লীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। মুসল্লীরা তাদের লানত দিচ্ছেন। আমরা এই দুর্ভোগ হতে রেহাই পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে সাথে জানিয়েছি। তাদের যে হামলার দাবি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো.তারেক আজিজ বলেন, বিকালে হাটহাজারী ফতেয়াবাদ স্কুলের বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত এস. এম. ফজলুল হকের অনুসারীদের সমাবেশ ছিল। তাদের দাবি, সমাবেশে আসার পথে মীরের হাট এলাকায় নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়। এর প্রতিবাদের তারা সড়ক অবরোধ করেন বলে জেনেছি। ৬টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
সময়ের আলো/এআর