মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চৌদ্দকাউনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে গোটা এলাকায়। জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
নিহত যুবকের নাম জয় (২৫)। সে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামের জামালের সরকারের ছেলে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামের জামালের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় বেকু হাসান ও হোগলাকান্দির লালু গ্রুপের লোকজনের বিরোধ ছিল। বেশ কয়েকবার বেকু হাসান ও হোগলাকান্দির লালু গ্রুপের লোকজন জামালের পরিবারে উপর হামলা চালায়। সর্বশেষ বুধবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে চৌদ্দকাউনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বেকু হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলা চালায় জামালের ছেলে জয়ের উপর। এসময় তারা তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তার আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নূরে আলম জিকু বলেন, রাত নয়টার দিকে তাকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা তাকে মৃত ঘোষণা করি। তার গায়ের বিভিন্ন অংশে ধারালো ছুরি জাতীয় কিছু আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি আমরা।
নিহত জয়ের বাবা জামাল সরকার বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। আমি থানায় মামলা করব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেকু হাসানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থায় থাকবো আমরা। অচিরেই তারা গ্রেফতার হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১মে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাহনিয়া গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা,ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেদিন বেকু হাসানের নেতৃত্বে ৩০-৪০জন প্রতিপক্ষের ৮টি বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর এবং লুটপাট চালায় সেদিন। এর আগেও ২০২৪ সালের ৭অক্টোবর, চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামে এই একই গ্রুপের লোকজন বাউল গানের আসরে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। সে সময় একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্নসহ ৪ জন আহত হয়।
/এমএইচআর