কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে থাকা চার বাংলাদেশি নাবিক অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তারা হলেন, মাহফুজুল ইসলাম, আল আমিন, হাবিবুর রহমান, আজগর হোসাইন। খালি ট্যাঙ্কারে করে মিসরের বন্দর থেকে রুশ বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন ওই নাবিকরা।
শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকালে তুরস্কের উপকূল হয়ে কৃষ্ণ সাগর পাড়ি দিচ্ছিল ওই ট্যাঙ্কার। আর তখনই ঘটে ড্রোন হামলার ঘটনা। তাদের উদ্ধার করে তুরস্কের কোস্টগার্ড সদস্যরা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজন বর্তমানে তুরস্কের একটি হোটেলে আছেন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকালে সময়ের আলোকে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে নাবিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠনে যোগাযোগ করা হয়। আমরা চার নাবিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা অনেক বড় বিপদ থেকে উদ্ধার হয়েছেন।
ক্যাপ্টেন সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত ২৮ নভেম্বর কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার এমটি কায়রোস। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। দুটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়। এরমধ্যে এমটি কায়রোস নামে ট্যাঙ্কারে ২৫ নাবিকের মধ্যে চারজন ছিলেন বাংলাদেশি। আমরা দুর্ঘটনার পর বিশ্বেরর যে কোনো প্রান্তের বাংলাদেশি নাবিকদের খোঁজ খবর রাখি। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে থাকি। চার নাবিক বিপদে পড়ার সংবাদ পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জেনেছি।
তারা অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন জানিয়ে ক্যাপ্টেন সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চারজনের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি ইউক্রেনের ড্রোন হামলা হয়েছে ওই ট্যাঙ্কারে। এতে ট্যাঙ্কারটিতে আগুন ধরে গিয়েছে। তবে তারা তুর্কি কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে উদ্ধার হয়ে বর্তমানে সেই দেশের একটি হোটেলে আছেন।
জাহাজটির চতুর্থ প্রকৌশলী নরসিংদীর মাহফুজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ড্রোন হামলায় ট্যাঙ্কারটিতে পরপর বিস্ফোরণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এসময় ট্যাঙ্কারে থাকা লাইফবোট পুড়ে যায়। বিস্ফোরণের পর তেল ছড়িয়ে পড়ে জাহাজের চারদিকে। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে লাইফ জ্যাকেট পরে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার উপায় ছিল না। এক পর্যায়ে বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়ে একজন আরেকজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। পরে তুর্কি কোস্টগার্ড সদস্যরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।
নাবিকরা আরও জানান, ঘটনার সময় এমটি কায়রোসের দিকে তিনটি নৌযানের মতো ড্রোন দ্রুতগতিতে ছুটে আসছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রথমে ট্যাঙ্কারের নিচে প্রপেলারে আঘাত লাগার পর বিকট শব্দ হয়। এ সময় জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর ট্যাঙ্কারের এক অংশে আগুন ধরে যায়।
এর আগে, ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয় বাংলাদেশি জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধি। এ হামলায় নিহত হন জাহাজটিতে দায়িত্বরত বাংলাদেশি নাবিক হাদিসুর রহমান। পরে জাহাজটিতে আটকে পড়া ২৮ নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) সেই বিকল জাহাজটি আর বহরে যুক্ত করা যায়নি। তবে জাহাজটির ইনস্যুরেন্স বাবদ বিপুল অর্থ পেয়েছিল বিএসসি।
এফআর