প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই নওগাঁয় স্কুল মাঠ দখল করে শীতবস্ত্র ও শিল্প পণ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে মাঠের পাশে থাকা তিনটি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে মাসব্যাপী সময়ের জন্য শহরের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলা আয়োজনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুমতি দিলেও তা নিয়মবহির্ভূত বলে জানিয়েছে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক এবং হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জান্নাত আরা তিথি।
পাশাপাশি মেলা পরিচালনার সুবিধার জন্য জেলা পুলিশের নাম ব্যবহার করা হলেও এ বিষয়ে অবগত না বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে, স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা চলমান থাকায় এ আয়োজনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জানা গেছে, রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি একমাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলার অনুমোদন পেতে গত ২৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রহিদুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন।
মেলায় পোশাক, বিভিন্ন ধরনের খাবার, খেলনা প্রায় ৫০টি স্টল অংশ নিয়েছে। এছাড়া বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, নৌকা ও ড্রাগন রয়েছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেলা চলছে। আর মেলায় প্রবেশের জন্য ২০ টাকার টিকিট চালু করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানায়, শহরের হাট-নওগাঁ একটি আবাসিক এলাকা। এ এলাকায় হাট-নওগাঁ মাঠে হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, হাট-নওগাঁ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রবাহ সংসদ স্কুল রয়েছে। স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা চলমান থাকায় মেলার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা ও পরীক্ষায় সমস্যা হচ্ছে।
তাদের দাবি, মঙ্গলবার মেলা শুরু হলেও দুই সপ্তাহ আগে থেকে এর অবকাঠামোগত কাজ করা হয়। মেলার জন্য টিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে পুরো মাঠে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। এতে হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দ্বিতীয় দরজা দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হচ্ছে।
এছাড়া, মাঠে মেলা বসায় খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।
হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলের গেট বন্ধ থাকায় প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে। পরীক্ষায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাঠে খেলাধুলাও করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সাইদুর রহমান নামে একজন বলেন, বাচ্চাদের এখনও পরীক্ষা শেষ হয়নি। এরমধ্যে স্কুল মাঠে মেলার আয়োজন ঠিক হয়নি। মেলা পুরোদমে শুরু হলে মাইকে গান বাজনা হবে এবং এলাকাবাসীরও সমস্যা হবে।
হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম নাজমুল হাসান বলেন, মাঠটি স্কুলের। তবে মেলার জন্য কোনো ভাড়া দেওয়া হয়নি। এলাকার এলিট পারসনরা অনুরোধ করায়— বিশেষ করে প্রবাহ সংসদ ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকসহ অন্যরা অনুরোধ করায়, মাঠে মেলা করার জন্য লিখিত অনুমতি দিয়েছি। তবে প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে লিখিত না দিয়ে মৌখিক বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্কুলের মোট ৩০০ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা দিচ্ছে ২৭৫ জন। ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণির পরীক্ষা বৃহস্পতিবার শেষ হবে। আর ৯ম ও ১০ দশম শ্রেণির পরীক্ষা আগামী রোববার শেষ। মেলার কারণে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। আগামী ১৫ ডিসেম্বর স্কুল ছুটি হবে।
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির স্বত্বাধিকারী রহিদুল ইসলাম বলেন, মেলা চালু করার জন্য এখনও অনুমতি পাওয়া যায়নি। আগামী ১২ ডিসেম্বর পরীক্ষা শেষ হলে পুরোদমে চালু করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাত আরা তিথি বলেন, স্কুল মাঠে মেলা চালানোর জন্য প্রধান শিক্ষক দিতে পারেন না। আর প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে আমাকে অবগতও করেননি। এছাড়াও নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই মেলার সঙ্গে জেলা পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যদিও তাদের ব্যানারে জেলা পুলিশের নাম লিখা আছে। ব্যানারগুলো খুলে ফেলতে বলা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মেলা বিষয়ে একটি আবেদন এসেছে। তবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
এফআর