তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার দাপটে কাবু হয়ে পড়েছেন এ জনপদের লোকজন। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও নদী-তীরবর্তী এলাকার ছিন্নমূল মানুষরা।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বের) রাজারহাট আবহাওয়া অফিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
যাত্রাপুর ইউনিয়নের দিনমজুর একদম হোসেন বলেন, কয়েক দিন থেকে খুব ঠান্ডা পড়েছে। ঠান্ডার কারণে কোদাল ধরা যায় না। মাটিকাটা খুব অসুবিধা হয়। ঠান্ডায় হাত-পাও কাঁপে। তারপরও পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে ।
জেলা সদরের চর কৃষ্ণপুর এলাকার কৃষক নারায়ন চন্দ্র বলেন, ঠান্ডা এত বেশি যে, ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। কাজকাম করা খুব অসুবিধা হচ্ছে। বয়স্ক মানুষগুলোর এমন ঠান্ডায় কাজ করা মুশকিল।
ধরলা তীরবর্তী ওয়াদা বাঁধে বসবাসরত ষাটোর্ধ্ব বিধবা নারী আকলিমা বেগম বলেন, নদীর পারত আমার বাড়ি। খুব ঠান্ডা লাগে। একটা কম্বল হলে এবারের ঠান্ডাটা পার হতো।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সামনের দিনে শীত আরও প্রকট হবে। তবে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ঘনকুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন।
আরআর