স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে হাতিয়াবাসীর

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

এতদিন যা ছিল শুধু স্বপ্ন। এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। সরাসরি গাড়িতে আসা যাওয়া করা যাবে। মালামাল বোঝাই গাড়ি

2025-12-07T14:14:59+00:00
2025-12-07T14:14:59+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে হাতিয়াবাসীর
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:১৪ পিএম 
হাতিয়ার ফেরিঘাট। ছবি : সময়ের আলো
এতদিন যা ছিল শুধু স্বপ্ন। এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। সরাসরি গাড়িতে আসা যাওয়া করা যাবে। মালামাল বোঝাই গাড়ি আসতে পারবে সহজে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম মূল ভূখণ্ডের সাথে নিরাপদ যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে দ্বীপের বাসিন্দারা। তাতে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্তে বদলে যাবে এই দ্বীপের ব্যবসা বাণিজ্যের ধরন। দুই পাড়ে শুরু হয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু হবে ফেরি। সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বাসিন্দারা।

একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের এই দ্বীপে সাড়ে সাত লাখ মানুষের বসবাস। মূল ভূখণ্ডের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌ-যোগাযোগ। দীর্ঘদিন থেকে সিট্রাক ও ট্রলারে নদী পারাপার করতে হতো এখানকার মানুষজনকে। তাতেও ছিল চরম ভোগান্তি। পুরাতন সিট্রাকগুলো প্রায় সময় বিকল হয়ে পড়ে থাকতো ঘাটে। তাতে ঝুঁকি নিয়ে ছোট ট্রলার ও স্পিডবোটে নদী পার হতো যাত্রীরা। মালামাল আনা নেওয়াতে ছিল বড় ভোগান্তি। নিরাপদ যোগাযোগ ছিল দ্বীপের বাসিন্দাদের বড় স্বপ্ন। বিগত সরকারগুলো শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ ছিল। উল্লেখ করার মতো কোন উন্নয়ন যোগাযোগ ব্যবস্থায় করা হয়নি। ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল আনা নেওয়া করতেন মান্ধাতার আমলের ট্রলারে। বর্ষায় প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেই ট্রলার ডুবির ঘটনাও ঘটেছে অসংখ্যবার। এখন সেই স্বপ্ন পুরন হতে চলছে। ফেরি চলাচলের জন্য নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাটে লেন্ডিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে।

সন্ধ্যার একটু আগে নলচিরা ঘাটে দেখা হয় ব্যবসায়ী বৃদ্ধ দুলাল ব্যাপারীর সাথে। দুলাল ব্যাপারী জানান, প্রতিদিন একবার আসেন ঘাটে। ফেরি চলাচলের জন্য তৈরি করা ঘাট এর কাজ দেখার জন্য। নিজের চোখে ফেরি চলাচল দেখতে পাবেন, যা কখনো চিন্তা ও করেননি। খুবই দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দুই পাড়ের ল্যান্ডিং স্টেশনের কাজ। প্রায় শতাধিক শ্রমিক ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। মাঝে মধ্যে জোয়ার ও ভাটির কারণে কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা সহ অনেক কিছু দৃশ্যমান হয়েছে।

পেশায় মুদি দোকানি দুলাল ব্যাপারী আরো জানান, ফেরি চলাচলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দ্বীপের ব্যবসায়ীরা। তাদের মালামাল বোঝাই গাড়ি সরাসরি দোকানের সামনে চলে আসবে। তাতে ঝুঁকি কমবে, কমবে পরিবহন খরচ। তাতে দ্বীপের বাসিন্দারা সুলভ মূল্যে পণ্য কিনতে পারবে। এক সময় ব্যবসায়ীর ট্রলার বোঝাই করে চট্টগ্রাম চাঁদপুর থেকে মালামাল নিয়ে আসতেন হাতিয়ায়। তাতে অনেক ঝুঁকি থাকতো। এতে মালামাল নিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে অসংখ্যবার। তাতে অনেক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পথের ভিখারি হয়ে পড়েছে।

নদীর তীরে দেখা হয় পল্লী চিকিৎসক তানভির উদ্দিনের সাথে। সে জানায়, এই ঘাটে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগীর আর্তনাদ দেখেছেন। অনেক গর্ভবতী মাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নদীর তীরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। নদী উত্তাল ও সতর্ক সংকেত দেওয়ার পর নৌ- চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। তাতে এপার থেকে ওপারে যাওয়া যায় না। দু-একটি নৌযান চলাচল করলেও প্রশাসনরে অনুমতি নিয়ে নিজেদের দায়িত্বে চলাচল করতে হয়। কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের অনার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য পরীক্ষার আগের দিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেওয় হয়। তাতে দ্বীপের প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ঘাটে আটকা পড়ে। ফেরি চালু হলে এই এই সমস্যায় আর পড়তে হবে না। একেবারে বেশি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না হলে নিরাপদে ফেরি চলাচল করতে পারবে। তাতে সাধারণ যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে।


ফেরি চলাচলে উচ্ছ্বসিত দ্বীপের বাসিন্দারা। এই রুটে চলাচলকারী যাত্রী, মুমূর্ষু রোগী, পণ্য আনা নেওয়া ও জরুরি প্রয়োজনে জেলা শহরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখন আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। ব্যবসায়ীদের মালামাল বোঝাই গাড়ি আসবে দোকানের সামনে। থাকবে না কোন ঝুঁকি। আবার দ্বীপের ইলিশ মাছ, ডাল, বাদাম ও ধান সহ উৎপাদিত পণ্য ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া যাবে মোকামে। পাওয়া যাবে সঠিক মূল্য। এই ফেরিতে দ্বীপের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি যেমন দূর হবে। তেমনি অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

হাতিয়া সম্মিলিত সামাজিক সংগঠনের সদস্য মো. জুয়েল জানান, এই ফেরির জন্য দ্বীপের বাসিন্দাদের আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে অনেক। দ্বীপের সন্তান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ সহ সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন দফতরে দফতরে গিয়ে ঘুরেছে দিনের পর দিন। নৌ- উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন পরিদর্শনে এসেছেন কয়েকবার। তাতেই আলোর মুখ দেখতে পেয়েছে হাতিয়ার ফেরি।

এই বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম আশ্রাফুজ্জামান বলেন, দ্রুত ফেরি চলাচলের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আপাতত দুই পাড়ে লো-ওয়াটার ও মিড-ওয়াটার চারটি রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এতে জোয়ারে ও ভাটিতে ফেরি থেকে গাড়ি উঠা নামা করতে পারবে। এছাড়া দুই পাড়ে জেটি, যাত্রী ছাউনি, ফেরিঘাট, ব্যাংক প্রোটেকশন, ফেরিঘাট অ্যাপ্রোচ রোড সহ আরো কিছু কাজের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন মেলে এসব কাজও দ্রুত করা হবে।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   ফেরি  নোয়াখালী  দ্বীপ উপজেলা  হাতিয়া 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: