ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সেবা কার্যক্রম, দেখার কেউ নেই

চাঁদপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চলছে সেবা কার্যক্রম। প্রতিদিনই ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সেবা দিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব,

2025-12-08T22:20:12+00:00
2025-12-08T22:20:12+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সেবা কার্যক্রম, দেখার কেউ নেই
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২০ পিএম 
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সেবা কার্যক্রম। সংগৃহীত ছবি
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চলছে সেবা কার্যক্রম। প্রতিদিনই ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সেবা দিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, সদস্যসহ কর্মচারীরা। সেবা নিতে আসা শত শত মানুষও আতঙ্কে থাকেন কখন মাথার ওপর ভেঙে পড়ে ভবনের কোনো অংশ। এটি কলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে কলাকান্দা ইউনিয়নের যাত্রা শুরু। শুরুতে একচালা টিনের ঘরে কার্যক্রম চলতো। ২০০৫ সালে ৬৬ শতাংশ জমির ওপর  নিজস্ব জায়গায় দ্বিতল ভবন এবং পাশে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ভবনের ছাদ থেকে প্রতিদিনই পলেস্তারা খসে পড়ে। পোকায় খাওয়া দরজা জানালা খুলে পড়ে যাচ্ছে। জানালার গ্রিল একেবারে মরিচায় ক্ষয়প্রাপ্ত। ভবনের পিছনের পশ্চিমাংশে পিলারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল! এমনকি একটি পিলার মূল ভবন থেকে আলাদা হয়ে গেছে। কয়েকটি জায়গায় ফ্লোর ডেবে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

ভবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ হলো গ্রাম আদালত কক্ষ। এজলাস কক্ষ ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে চরম ভোগান্তি নিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করতে হচ্ছে।

মিলার চরের কামাল হোসেন (৪২) বলেন, যে অবস্থার মধ্যে অফিস চলছে, তাতে ভয় হয় কখন ছাদ ভেঙে পড়ে আমাদের ক্ষতি হবে। 


হানির পাড়ের শেফালী বেগম (৪৫) বলেন, মাঝে মাঝেই মাথার ওপর কিছু না কিছু পড়ে। তবুও কাজের প্রয়োজনে আসতেই হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম চলার পরও কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। তাদের দাবি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে নিরাপদ পরিবেশে সেবা নিশ্চিত করা হোক।

কলাকান্দা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মো. সোহাগ বলেন, ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে কাজ করতে হয়। কয়েকবার বড়সড় অংশ খসে পড়ে। আমরা জীবনের ঝুঁকি জেনেও মানুষকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।

কলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে চেয়ারম্যানের বসার ঘরটি কোনো রকমে সংস্কার করেছি। কিন্তু পুরো ভবন সংস্কারের মতো অর্থ আমাদের নেই। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট দফতর বহুবার চিঠি পাঠিয়েছি কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। 

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, কলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে আমরা অবগত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   ঝুঁকিপূর্ণ  ভবন  সেবা  কার্যক্রম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: