ঝালকাঠির নলছিটির কামদেবপুর গ্রামে এক রাজমিস্ত্রির পরিবারকে ওপর হামলা ও পরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক রাকিব ফকিরের বিরুদ্ধে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না ভুক্তভোগী জুলহাস হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা।
রাজমিস্ত্রি জুলহাসের দাবি, তার বাড়িতে রাকিব ফকিরের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে তার দেড় বছরের এক শিশুসহ পরিবারের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে চিকিৎসার নেওয়ার পর প্রাণভয়ে তারা বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে, হামলার ঘটনায় ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা (নং- সিআর ৪৬১) করেছে ভুক্তভোগী জুলহাস।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনসিপির নলছিটি উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক রাকিব ফকিরের নেতৃত্বে ৮–১০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি রামদা, দা, চাপাতি, রড ও লাঠি নিয়ে রাজমিস্ত্রি জুলহাস হাওলাদারের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
হামলায় জুলহাস হাওলাদার, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার ও তাদের পুত্র জিহাদ গুরুতর আহত হন। এ সময় দেড় বছরের কন্যা জিদনী আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা নগদ ৩৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, শিশুর এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে এবং বসতঘর ভাঙচুর করে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে।
ভুক্তভোগী জুলহাস হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। একদিকে আমাকে মীমাংসার জন্য ডেকে অন্যদিকে হামলাকারীরা আমার বসত ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে এবং বসতঘর ভাঙচুর করে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমি মামলা করলে রাকিব ফকিরের পিতা আহমদ ফকির ও তার সহযোগীরা আমাদের ভিটাছাড়া করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমি অসহায় হয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি, ন্যায় বিচারের আশায়।
তার স্ত্রী শিরিন আক্তার বলেন, আমরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এলাকায় গেলে আমার স্বামীকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাকিব ফকির ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তারা দাবি করেন, জুলহাস একজন দিনমজুর রাজমিস্ত্রি এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপি নেতা মো. রাকিব ফকির বলেন, আমরা কেন তাদের ওপর হামলা করব? গত ২ ডিসেম্বর তারা আমার মা ও বোনের ওপর হামলা করেছে। সে ঘটনায় আমরা মামলা করেছি, পুলিশ তাদের খুঁজছে। সেই কারণে তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে হামলা করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
তিনি আরও বলেন, তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। আমরা নতুন বন্দোবস্ত চাই বলেই তারা আমাদের পরিবারের ওপর হামলা করেছে।
জানতে চাইলে মোল্লারহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, রাকিব ফকিরের করা মামলায় একজন আসামি বাদে বাকিরা জামিনে রয়েছেন। তবে জুলহাস হাওলাদারের মামলার কাগজপত্র এখনও আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। কাগজপত্র পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফআর