উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রতি বছর শীত মৌসুমে বিপাকে পড়ে এই অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষেরা। হিমালয়ের অনেক কাছে হওয়ায় এখানে শীতের তীব্রতা প্রতি বছরই বেশি হয়। কিন্তু এবার যেন শীত একটু বেশি দাপুটে। ডিসেম্বরের শুরুতে শীতের তীব্রতা শুরু হলেও মাসের শেষ থেকে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের প্রচণ্ড শীতে সাধারণ মানুষ কাজে যেতে পারছে না। শ্রমিক শ্রেণির এসব মানুষ পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। ফলে শীতে জবুথুবু হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষজন। তাপমাত্রা নেমে আসার পাশাপাশি প্রচণ্ড হিমেল হাওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন যাত্রা।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ।
জেলার সব জায়গায় বিশেষ করে তেঁতুলিয়ায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও ঘন-কুয়াশার কারণে খেটে খাওয়া মানুষজন বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কনকনে ঠাণ্ডায় বৃদ্ধ ও শিশুদের মাঝে ডায়রিয়া সহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন ধরণের রোগ দেখা দিয়েছে। ঠাণ্ডা নিবারণের জন্য গরীব ও মধ্যবিত্তরা ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে কম দামে ঠাণ্ডা নিবারণের পোশাক কিনতে ভীড় করতে দেখা গেছে। অনেকেই চুলায় খড়কুটো বা পুরোনো কাগজে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
এই জেলায় কখনো সারাদিন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে আবার কখনো চলছে হালকা রোদের আসা-যাওয়া। গত কয়েক দিন ধরে হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। রাতের বেলা বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে কুয়াশা ঝরছে।
এই প্রচন্ড শীতেও শীতবস্ত্র আমাদের কাছে পৌঁছায় না, এমন অভিযোগ করেন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজন নারী। তারা বলেন, জেলা শহর ও উপজেলা শহর থেকে আমাদের এখানকার দূরত্ব বেশি হওয়ায় শীতবস্ত্র আমাদের এখানে আসার আগেই শেষ হয়ে যায়।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন,আজকের তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ঠান্ডার প্রকোপ বেড়েছে।
/ইউএমএইচ