নলকূপ আছে পানি নেই

দুমকি (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

সারাদেশ

সাগর উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ক্রমাগত কমছে ভূগর্ভস্থ পানির স্থর। হস্তচালিত গভীর নলকূপে পানি না পেয়ে চরম

2025-12-23T22:42:45+00:00
2025-12-23T22:42:45+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
নলকূপ আছে পানি নেই
দুমকি (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪২ পিএম   (ভিজিট : ১০৫)
শুষ্ক মৌসুমে হস্তচালিত গভীর নলকূপে পানি মিলছে না। সংগৃহীত ছবি
সাগর উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ক্রমাগত কমছে ভূগর্ভস্থ পানির স্থর। হস্তচালিত গভীর নলকূপে পানি না পেয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। বিগত দুই বছর ধরে চলছে এই অবস্থা। শুষ্ক মৌসুম এলেই গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করতে পারে না এলাকাবাসী। 

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নিপা আক্তার বলেন, ভবিষ্যতে হস্তচালিত নলকূপের পরিবর্তে সাবমারসিবল পাম্প বসানোর জন্য এলাকাবাসীর স্বার্থে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে। 

বেসরকারি এনজিও সংস্থার উপজেলা সভাপতি এবং পিএসএসের পরিচালক হোসাইন আহম্মদ কবির হাওলাদার বলেন, জনগণের সুবিধার্থে সমাজসেবামূলক কাজের লক্ষ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। 

সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাংগাশিয়া ইউনিয়নের আলগীসহ কয়েকটি গ্রাম, লেবুখালী ইউনিয়নের লেবুখালীসহ উত্তর এলাকা, আংগারিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম আংগারিয়াসহ পশ্চিম এলাকা, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দুমকি, শ্রীরামপুর এবং উত্তর দুমকি এলাকায় গত দুই বছর ধরে শুকনা মৌসুমে হস্তচালিত গভীর নলকূপে পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার ভুক্তভোগী জনসাধারণ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে গিয়ে অভিযোগও জানিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে লোকজন সরেজমিন পরিদর্শন করে জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে চলে যাওয়ার কারণে গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না।  


ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান খান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এলাকার খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় পানি থাকছে না। অন্যদিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে পীরতলা জামলা ও আংগারিয়া খাল ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় পানি চলাচল ব্যাহত ও খালের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনসাধারণ অন্যান্য কাজেও পানি ব্যবহার করতে পারছে না। শুষ্ক মৌসুমে টিউবওয়েলে পানির অভাবে অনেকে ব্যবহার অনুপযোগী পানি ব্যবহার করে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। 

দুমকি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. জামাল হোসেন জানান, শুষ্ক মৌসুম এলেই কলেজ শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা পানির সমস্যা সমাধানের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ ও ব্যবহার করতে হচ্ছে। আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা নিবাসী আবু রায়হান বলেন, গভীর নলকূপ বসিয়েও শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেই পানি পাওয়া যায় না। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব এলাকায় বিগত দিনে ৮শ থেকে ১ হাজার ফুট গভীরেও টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপনের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে ভুক্তভোগী এলাকায় পানি সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। দুমকি উপজেলায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৫৩০টি টিউবওয়েল এবং বেসরকারিভাবে ১ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে। এলাকাবাসী ব্যক্তিগত খরচে নিজ নিজ বাসায় টিউবওয়েল স্থাপন করেও পানি পাচ্ছে না। এমসনটি মোটর ব্যবহার করেও পানি উত্তোলন করতে পারছে না তারা।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   নলকূপ  পানি  শুষ্ক মৌসুম  দুমকি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: