প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৮ এএম আপডেট: ০৩.০১.২০২৬ ৯:২০ এএম
ঘন কুয়াশায় হেড লাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। ছবি : সময়ের আলো সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েছে, কমেছে তাপমাত্রা। বর্তমানে এই জেলায় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কাছাকাছি অবস্থান করার কারণে মাঝারি থেকে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। কনকনে শীতের দাপট আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। তীব্র শীতে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে খুব কষ্টে আছে দরিদ্র ও শ্রমজীবী লাখ লাখ মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে সদ্য ভূমিষ্ঠ ও বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে অভিভাবকরা। ঘন কুয়াশায় মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলতে দেখা গেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারী) সকাল ৬ টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সর্বনিম্ন মাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায়।
বিগত কয়েকদিন ধরেই দিনের অর্ধেক সময় সূর্যের দেখা মেলেনি। গত ২ দিন আবার সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়ছে শীতার্ত মানুষরা।
এই জেলায় বিভিন্ন জায়গায় শীতার্ত মানুষেরা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে শ্রমজীবী মানুষ। কনকনে শীতে গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে বের হচ্ছে। তীব্র শীতে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। প্রতিনিয়তই জেলা ও উপজেলার হাসপাতাল গুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে ছিন্নমূল ও দিন এনে দিনে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। সকালে কনকনে শীত উপেক্ষা করেই তাদের কাজে নামতে হচ্ছে। আবার শীতার্ত মানুষ গুলোর শীতের একমাত্র সম্বল সরকারি বা বেসরকারিভাবে পাওয়া কম্বলের অভাব দূর হচ্ছে না।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জানান, শীতে দরিদ্র মানুষের কোন ধরনের দুর্ভোগ হবে না। দরিদ্র শীতার্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে অনেকে অভিযোগ করেছে, যারা শীতবস্ত্র পাচ্ছে, তারাই সবসময় পেয়ে থাকে। আর যারা পাচ্ছে না, তারা কোনো দিনই পায় না।
/ইউএমএইচ