ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় মোড় দেখা গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এতদিন ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এবার তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলছেন। বর্তমানে আদালতের অনুমোদনে তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য আটলান্টিক- এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজকে কড়া সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প বলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ ‘সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে’ তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভেনেজুয়েলার অবস্থানে স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন রদ্রিগেজ। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে একটি ‘সহযোগিতাভিত্তিক এজেন্ডা’ নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
রদ্রিগেজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হবে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পারস্পরিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সহাবস্থান গড়ে তোলা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি উদ্দেশ করে রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ও গোটা অঞ্চল শান্তি ও সংলাপ প্রত্যাশা করে। তার মতে, এটি শুধু বর্তমান সরকারের নয় বরং ভেনেজুয়েলার সামগ্রিক জাতীয় বার্তা।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার শান্তি, উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে, যা রক্ষা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ডেলসি রদ্রিগেজের এই বক্তব্য তার আগের কঠোর অবস্থান থেকে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন, বর্তমান বক্তব্যে তার বিপরীত সুরই প্রতিফলিত হচ্ছে।
এএডি/