ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত ভেনেজুয়েলায় কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না এবং দেশটির পুনর্গঠন করার আগে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়। ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলাকে ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা’ জরুরি এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশগ্রহণ করবে, প্রয়োজনে মার্কিন সেনা মোতায়েনেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এ তথ্যটি ট্রাম্প নিজে সোমবার এনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ঠিক করতে হবে। এই মুহূর্তে নির্বাচন সম্ভব নয়, কারণ জনগণ ভোট দিতে সক্ষম হবে না। আমাদের দেশটিকে ধীরে ধীরে সুস্থ করতে হবে।’
পাশাপাশি, তিনি দাবি করেন যে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে এবং এখন থেকে দেশটির পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা নেবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং মাদক চক্র ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, যারা আমাদের দেশে মাদক, বন্দী এবং মানসিক রোগীদের পাঠিয়ে দেয়।’
এছাড়া, ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে সাহায্য করতে পারে এবং এতে ১৮ মাসেরও কম সময় লাগতে পারে বলে তার অনুমান।
ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা কাজ করবেন বলেও জানান ট্রাম্প, যার মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিতভাবে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব এখন থেকে আমার।’
এদিকে, মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ট্রাম্প জানান, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছেন তবে মাদুরোকে সরাতে তার সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার করেননি তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি রদ্রিগেজ সহযোগিতা না করেন তবে দ্বিতীয় সামরিক অভিযানেরও সম্ভাবনা রয়েছে যদিও তিনি মনে করেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
এছাড়া, ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জানিয়েছেন, তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এ বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই।
এএডি/