কক্সবাজারের উখিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে। দলিল নিবন্ধনে সময়ক্ষেপণ ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা গ্রহীতারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতার প্রভাব খাটিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা মো. মোরশেদ আলম কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অন্যদিকে অফিস সহকারী বেবী রাণী দে, মোহরার সৃদুল দাশ ও রবিউল্লাহ রবির সিন্ডিকেট অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিচ্ছেন।
দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে জমির মূল্যের পাঁচ শতাংশ অর্থ ঘুষ নেন বেবী রাণী দে। অর্থাৎ এক কোটি টাকার জমি নিবন্ধনে ঘুষ দিতে হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া বিভিন্ন সেবার নামে ‘কমিশন’ ও ‘অফিস খরচ’ নাম দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও বাজারমূল্য ইচ্ছে মতো কমিয়ে দলিল নিবন্ধন করে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে। এছাড়া দলিলে টিপসই নেওয়া, রশিদ লেখা, মোহরাররা ও কোর্ট ফি আদায়ের প্রতিটি ধাপে ঘুষ নেওয়া হয়।
তদন্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী বেবী রাণী দে’র সঙ্গে মুঠোফোনে কল করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত রবিউল্লাহ রবির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা মো. মোরশেদ আলম বলেন, অফিসে প্রবেশে কোনো অনুমতি লাগে না। তবে খাসকামরায় প্রবেশের জন্য অনুমতি প্রয়োজন। কারণ এটি অফিসারের ব্যক্তিগত কাজের স্থান।
তিনি আরও বলেন, আমার অফিস সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত। এখানে অবৈধ লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। যে সব অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। কারও অভিযোগ থাকলে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অফিসের কোনো কর্মচারী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সময়ের আলো/আআ/এসকে/