মানসিক চাপ থেকে মুড সুইং

কন্যা জায়া জননী ডেস্ক

বর্তমান সময়ে নারীর জীবন আগের তুলনায় অনেক ব্যস্ত ও চাপের। কর্মজীবন, পরিবার, সামাজিক দায়িত্ব- সবকিছুর ভার সামলাতে গিয়ে নারীর মানসিক

2026-01-07T03:46:14+00:00
2026-01-07T03:46:14+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
মানসিক চাপ থেকে মুড সুইং
কন্যা জায়া জননী ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বর্তমান সময়ে নারীর জীবন আগের তুলনায় অনেক ব্যস্ত ও চাপের। কর্মজীবন, পরিবার, সামাজিক দায়িত্ব- সবকিছুর ভার সামলাতে গিয়ে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য প্রায়ই নাজুক হয়ে ওঠে। হঠাৎ করে মন খারাপ হয়ে যাওয়া, রাগ হওয়া, কান্না পাওয়া আবার চট করেই মনে উৎফুল্লভাব বা আনন্দ অনুভব করার মতো অনুভূত হয়। নারীদের এই মুড সুইং নিয়ে সমাজে বা পরিবারে অনেকেই রসিকতা করে থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো ‘স্বভাবগত দুর্বলতা’ নয়, বরং শরীর ও মনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। 

নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক চাপ জড়িত। এটি শুধু মুড সুইং নয়, ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ এবং একাগ্রতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও সৃষ্টি করে। 

বর্তমান সময়ে নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইনের কাজ ও পরিবার- সবকিছুর মধ্যে সবসময় ব্যস্ত থাকে। এত চাপ অনেক সময় তাদেরকে হতাশা, অবসাদ বা বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দেয়। 

এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. রশিদুল হক বলেন, জন্মগতভাবেই প্রতিটি মানুষের মনে ভালো লাগা, খারাপ লাগা, আনন্দ, রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা, ভালোবাসা বিভিন্ন আবেগ থাকে। কখনো কখনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ আবেগের পরিবর্তন হলে তাকে আমরা মুড সুইং বলি। 

নারীদের মুড সুইং হওয়ার প্রবণতা পুরুষের তুলনায় বেশি যার পেছনে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও শারীরবৃত্তিয় কারণ দায়ী। নারীদের অনেক কিছু ম্যানেজ করে চলতে হয়। তাদের বয়োসন্ধিকাল, ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা, মাতৃত্ব, মেনোপোজ ইত্যাদি। যার ফলে নারীদের অনেক বেশি মুড সুইং হয়ে থাকে। তিনি নারীদের মুড সুইংয়ের কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন-নারীর জীবনে বয়োসন্ধিকালে ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পর প্রতি মাসে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্ট্রেরন হরমোনের তারতম্য ঘটে যা মুড সুইংয়ের কারণ যেমন- পেরিমেনুস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম। গর্ভাবস্থায় ও প্রসবকালীন হরমোনের অনেক বেশি পরিবর্তন হয় যা আবেগের ওপর প্রভাব ফেলে ও মুড সুইং ঘটায়। মেনোপোজের সময় ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ শরীরে কমে যায় ফলে পেরিমেনোপোজাল সিন্ড্রোম দেখা দেয় যা মুড সুইংয়ের কারণ। থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যের কারণেও মুড সুইং হয়ে থাকে। 

এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, হতাশা বা বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, ধূমপান ও অন্যান্য মাদক সেবন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন (যেমন চা/কফি পান করা), ঘুমের সমস্যা ও ডিভাইস আসক্তি, তার সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগÑ যেমন (মুড ডিসঅর্ডার, ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার, অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার)। তিনি আরও বলেন, নারীদের মুড সুইংয়ের সঙ্গে পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক অনেক ফ্যাক্ট জড়িত। তাই পরিবারের সহযোগিতা ও কিছু কিছু জীবনধারার পরিবর্তনে মুড সুইং নিয়ন্ত্রণ করা সহায়ক। যেমন-
. প্রতিদিন নিয়মিত ঘুমের সাইকেল মেইনটেইন করতে হবে। রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। 

. ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার সময় ঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে। 

. বিকালে ৩০-৪০ মিনিট নিয়মিত হাঁটবেন/হালকা ব্যায়াম করবেন। 

. ধূমপান নিষেধ। 

. রাত ১০টার পর ডিভাইসের স্কিন লাইট বন্ধ রাখুন যা ঘুমে সহায়ক। 

. মাত্রাতিরিক্ত চা/কফি খাবেন না, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর। 

. রিলাক্সেশন থেরাপি- যেমন যোগব্যায়াম, মাইন্ডফুলনেস ট্রেনিং, মেডিটেশন, ইয়োগা অনেক সময় স্ট্রেস কমাতেও শিথিলায়নে সাহায্য করে। 

. ঘন ঘন মুড সুইং হলে দ্রুত একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। 

মুড সুইং নিয়ে ফ্রিল্যান্সার ঝুমকি বসু বলেন, দিনভর কাজ ও পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজেকে সময় দেওয়ার সুযোগ খুব কম। ফলে মন খারাপ ও স্ট্রেস হয়। নারীরা চাকরি, সংসার ও পরিবারের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলান। কর্মজীবনের চাপ ও পরিবারের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যায়। ঘুম না হওয়া ও নিজেকে সময় না দেওয়ায় অনেক বেশি মুড সুইং হয়ে থাকে। ক্লান্ত মস্তিষ্ক সহজে বিরক্ত হয়, মনোযোগ কমে যায়। 

গৃহিণী ফারজানা আক্তারও প্রায় একই বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনেকেই নিজের রাগ, কষ্ট বা হতাশা প্রকাশ করতে পারেন না। এটি মনের ভেতরে জমে একসময় বিস্ফোরিত হয়। আবেগ প্রকাশের সুযোগ না থাকলে মুড সুইং সহজেই দেখা দেয়। অনেক সময় পারিবারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপ এবং অন্যদের সমালোচনা মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। 

নারীর জীবনে মানসিক চাপ ও মুড সুইং এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আধুনিক জীবনের বাস্তব প্রতিফলন। কর্মজীবন, পরিবার ও সামাজিক প্রত্যাশার ভার বহন করতে গিয়ে নারীরা প্রায়ই নিজের অনুভূতি আড়াল করে রাখেন। মুড সুইং কোনো স্বভাবগত ত্রুটি নয়, বরং শরীর ও মনের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সতর্ক সংকেত। এই সংকেতকে অবহেলা না করে প্রয়োজন বোঝাপড়া, সহানুভূতি ও যথাযথ সমর্থন। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   মানসিক চাপ  মুড সুইং 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: