প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৪ এএম
সংগৃহীত ছবিআবহমান কাল ধরে বাঙালি নারীর পরিচয় ছিল ত্যাগের প্রতিমূর্তি হিসেবে। পরিবারের সবার যত্ন নিতে গিয়ে নিজের শরীরের অবহেলা করাই যেন ছিল অলিখিত নিয়ম। কিন্তু সময় বদলেছে। আজকের নারী ঘরের কোন থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা- সবখানেই নিজের পদচিহ্ন রাখছেন। এই বহুমুখী দায়িত্ব পালনের জন্য নারীর প্রয়োজন অনন্য শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক স্থিরতা। আর এই যাত্রায় নারীর সবচেয়ে বড় তিন বন্ধু হলো যোগব্যায়াম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস।
নারীর ক্ষমতায়ন কেবল পদবি বা পেশায় নয়, বরং তার শরীর ও মনের সুস্থতার ওপরও নির্ভর করে। যখন একজন নারী নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন, তার মন শান্ত থাকে; যখন তিনি ব্যায়াম করেন, পুষ্টিকর খাবার খান, তখন তার শরীর শক্তিশালী হয়। ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার অপরিহার্য অংশ।
যোগব্যায়াম
নারীর শরীর ও মন পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি সূক্ষ্ম হরমোনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বয়োসন্ধি থেকে শুরু করে মাতৃত্ব এবং মেনোপজ- প্রতিটি ধাপে যোগব্যায়াম হতে পারে পরম নির্ভরতা।
হরমোনের ভারসাম্য : পিসিওএস বা থাইরয়েডের মতো সমস্যা বর্তমানে ঘরে ঘরে। বিভিন্ন যোগব্যায়ামগুলো হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থিগুলোকে সচল রাখে।
মানসিক প্রশান্তি : সংসার ও কর্মক্ষেত্রের দ্বিমুখী চাপ সামলাতে গিয়ে নারীরা প্রায়ই ‘বার্নআউট’-এর শিকার হন। প্রতিদিন ১০ মিনিটের ‘প্রাণায়াম’ বা ‘শবাসন’ কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে মনে প্রশান্তি আনে।
পিরিয়ডের জটিলতা : মাসিকের সময় অসহ্য পেটে ব্যথা বা অনিয়মিত মাসিক থেকে মুক্তি দিতে যোগাসনের কোনো বিকল্প নেই।
ব্যায়াম
নারীদের একটি বড় অংশ একটা বয়সের পর হাড়ের ক্ষয় বা ‘অস্টিওপোরোসিস’-এ ভোগেন। ক্যালসিয়ামের অভাব মেটাতে এবং শারীরিক গঠন ঠিক রাখতে ব্যায়াম অপরিহার্য।
পেশি ও হাড়ের শক্তি : নিয়মিত ওয়েট ট্রেনিং বা স্কোয়াট করলে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে। এটি মধ্যবয়সে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
বিপাক প্রক্রিয়া : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর শরীরে মেদ জমার প্রবণতা বাড়ে। বিশেষ করে পেটের মেদ বা ভিসারাল ফ্যাট কমাতে কার্ডিও ব্যায়াম এবং দ্রুত হাঁটা অত্যন্ত কার্যকর।
আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি : শারীরিক সক্ষমতা সরাসরি মানসিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। যখন একজন নারী শারীরিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী মনে করেন, তখন তার কাজের গতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
নারীর ডায়েট চার্ট কেবল ওজন কমানোর জন্য নয়, বরং পুষ্টির ঘাটতি মেটানোর জন্য হওয়া উচিত। নারী শরীরে আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফলিক অ্যাসিডের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। প্রজনন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে এবং রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া এড়াতে পাতে প্রচুর সবুজ শাকসবজি, ডালিম, কচুশাক এবং বিটরুট রাখা জরুরি।
একজন মা বা একজন গৃহকর্ত্রী যখন সুস্থ থাকেন, তখন পুরো পরিবার সুস্থ থাকে। তাই নিজের যত্ন নিতে শিখুন। আপনার সুস্থ থাকার ওপরই নির্ভর করছে একটি সুস্থ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।
সময়ের আলো/এনএ