প্রথম ভোটের উচ্ছ্বাস ভবিষ্যতের প্রত্যাশা

কন্যা জায়া জননী ডেস্ক

ভোট মানে শুধু একটি ব্যালট পেপারে চিহ্ন দেওয়া নয়। ভোট মানে নিজের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা, নিজের অবস্থান স্পষ্ট

2026-02-11T03:44:03+00:00
2026-02-11T03:44:03+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রথম ভোটের উচ্ছ্বাস ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
কন্যা জায়া জননী ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪৪ এএম 
এই প্রজন্মের নারী ভোটাররা শুধু ভোট দেওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ছবি : সংগৃহীত
ভোট মানে শুধু একটি ব্যালট পেপারে চিহ্ন দেওয়া নয়। ভোট মানে নিজের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাই অনেকের কাছেই আবেগ আর দায়িত্বের এক অনন্য মুহূর্ত। এই প্রজন্মের নারী ভোটাররা শুধু ভোট দেওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না, একই সঙ্গে নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশাও অনেক। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সম্মান- এই চারটি জায়গাতেই তারা পরিবর্তন দেখতে চান। প্রথম ভোটের সেই অনুভূতি আর প্রত্যাশার কথাই উঠে এসেছে কয়েকজন নতুন ভোটার অভিজ্ঞতায়- 

চট্টগ্রাম প্রকৌশলও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া (সুমি) নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, প্রথম ভোটার হিসেবে আমি খুবই এক্সাইটেড। এতদিন আমি অন্যদের ভোট দেওয়া দেখেছি, এবার আমি নিজে সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছি। এই একটি ব্যালট পেপার আমাকে শিখাবে- আমি আর নীরব দর্শক নই, আমি একজন সচেতন নাগরিক। আমি মনে করি, নারীর উন্নতি মানেই সমাজের উন্নতি। নতুন সরকার যদি নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা আর সম্মান নিশ্চিত করতে পারে, তা হলেই দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী পুসমিতা সাহা বলেন, প্রথমবার ভোট দেওয়া আমার জন্য বিশেষ অনুভূতি। মনে হচ্ছে আমি দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক। ছোট একটি চিহ্ন দিলেও তার মূল্য অনেক বড়। কারণ এর মাধ্যমেই আমরা ভবিষ্যৎ সরকার নির্বাচন করি। তাই ভোট দেওয়ার সময় সচেতন থাকা জরুরি। 

 নতুন সরকারের কাছে আমার আশা- নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ বাড়ানো। রাস্তায় ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।  সে সাথে মেয়েদের জন্য স্কলারশিপ, নিরাপদ পরিবহন ও সহজে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়। এভাবে সমাজ এগিয়ে যাবে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) শিক্ষার্থী সাদিয়া আকতার বলেন, নতুন ভোটার হিসেবে আমার অনুভূতি খুবই আনন্দের। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, ভোট দেওয়া শুধু অধিকার নয় বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রত্যেকটি ভোটই দেশ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা হলো শিক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ। কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফারজানা আলমের কাছে প্রথম ভোট মানে গর্ব ও দায়িত্ববোধের মিলন। তার ভাষায়, নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই অধিকার তাকে সচেতন হতে ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দেয়। তিনি মনে করেন, নতুন সরকারের উচিত নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা সহায়তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সুরক্ষা জোরদার করলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আরও আত্মবিশ্বাসী ভূমিকা রাখতে পারবে।

শিক্ষার্থী তানিসা তাসনুভা বলেন, নতুন ভোটার হিসেবে প্রথমবার ভোট দেওয়ার অনুভূতি আমার কাছে শুধু আনন্দের নয়, এটা এক ধরনের নীরব অঙ্গীকার- আমি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। একটি ভোটের মাঝেই লুকিয়ে থাকে পরিবর্তনের শক্তি। নতুন সরকারের কাছে আমি চাই, নারীদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে তারা ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে পারে। 

মেয়েদের শিক্ষা যেন থেমে না যায় দারিদ্র্য বা সামাজিক বাধায়। নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, সমান সুযোগ ও আত্মমর্যাদার নিশ্চয়তা পেলে নারীরাই সমাজকে আরও মানবিক ও শক্তিশালী করে তুলতে পারবে। আমি  আরো চাই, দেশের মানুষের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাক, আইনের সুশাসন, নারীদের সুরক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিশ্চিন্ত জীবন। পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে পরিকল্পিত সড়কব্যবস্থা, নিরাপদ গণপরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে। এসব উদ্যোগই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত দেশ গড়তে সাহায্য করবে।

এই নতুন নারী ভোটারদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা বলছে, ভোট এখন আর শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি সচেতন নারীদের চোখে ভবিষ্যৎ বদলের প্রত্যয়। তাদের কথাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সময়ের আলো/কেএইচও



  বিষয়:   প্রথম ভোট  উচ্ছ্বাস  ভবিষ্যত প্রত্যাশা 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: