চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আমিরাবাদ জনকল্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
গত এক বছরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, ব্যাংকবহির্ভূত লেনদেন এবং ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে ১৮ লক্ষ টাকা লোপাটের তথ্য পেয়েছে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক গঠিত অডিট কমিটি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহ।
জানা যায়, বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন শায়লা খানম। তিনি চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করতেন। স্কুলে আসতেন খুব কম। এ সময় খেয়ালখুশি মতো বিদ্যালয়ের অর্থ খরচ এবং হিসাবে গরমিল করে বিদ্যালয়টির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গঠিত অডিট কমিটির তদন্তে প্রধান শিক্ষকের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অডিট কমিটির রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্কুলের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলিত ৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কোনো হিসাব দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। স্কুলের দাতা সদস্যদের দেওয়া ৪ লক্ষ টাকা হিসাব বইতে লিপিবদ্ধ করেননি। স্কুলে যোগদান করেননি এমন শিক্ষককে বেতন দেওয়ার কথা বলে ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকার হিসাব বইতে লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে আসা স্কুলের তহবিলের প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহ।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মো. সলিমুল্লাহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। গঠিত অডিট কমিটিও সঠিক হয়নি। এই কমিটির একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ দিয়েছি। এরপরও তাকে কমিটিতে রেখেই অডিট করা হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার ও অডিট কমিটির সদস্য নুরুল আবছার জানান, আমিসহ ৩ সদস্যের অডিট কমিটি প্রধান শিক্ষকের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছি। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসাকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।
সময়ের আলো/জেডআই