ঘন কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা

তৌহিদুল বকসী ঠান্ডা, কুড়িগ্রাম

সারাদেশ

কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বোরো ধানের বীজতলার চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও

2026-01-08T21:39:00+00:00
2026-01-08T21:46:19+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঘন কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা
তৌহিদুল বকসী ঠান্ডা, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম  আপডেট: ০৮.০১.২০২৬ ৯:৪৬ পিএম
কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের চারা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ছবি : সময়ের আলো
কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বোরো ধানের বীজতলার চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করেছে। কোল্ড ইনজুরি দেখা দেওয়ার কারণে চলতি বোরো মৌসুমে চারার সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। 

একইসঙ্গে চারা রোপণের আগেই শীত ও কুয়াশায় বীজতলার জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এতে ব্যাহত হতে পারে বোরো চাষের আবাদ।

তবে কৃষি অফিস বলছে, ক্ষতি কমিয়ে আনতে এ ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুড়িগ্রামে সূর্যের দেখা মেলেনি। দিন-রাত বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা।

সরেজমিন দেখা যায়, পৌরশহরের ভেলাকোপা, টাপুরচর, সদরের কাঁঠালবাড়ী, যাত্রাপুর, মোগলবাসা, হলোখানা ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার ধরণী বাড়ি ইউনিয়নের দাড়ারপাড়, সাতদরগা, হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর, গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবেরতল, শুকদেব, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের চায়নার বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৫ হেক্টর। বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪২৫ হেক্টর। অর্জিত বীজতলার পরিমাণ ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর।


সদরের পাঁচগাছি ইউনিয়নের আরাজী ভোগডাঙা এলাকার কৃষক জমশেদ আলী জানান, আমার মোট আবাদি জমির বিপরীতে দশ শতক বীজতলা জমির অধিকাংশই তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বিবর্ণ হয়ে গেছে। এ অবস্থা থাকলে ভীষণ বিপদে পড়ে যাব।

জেলা সদরের হলোখানা ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া এলাকার কৃষক করিমল মিয়া জানান, আমার নিজের কিছু জমিসহ আদি ভাগে (বর্গা) এক একরের বেশি জমিতে বোরো ধান রোপণ করার জন্য বীজতলায় চারা রোপণ করেছি কিন্তু তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চারাগুলো হলুদ ও লালচে রং ধারণ করেছে। এ অবস্থায় চারা মরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় চারা নিয়ে শঙ্কায় আছি। 

বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের যমুনার পাড় এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে চারাগাছ বড় হচ্ছে না। কিছু বীজতলায় ধান থেকে চারা জন্মায়নি। যদিও কিছু চারা গজিয়েছে কিন্তু টানা কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে হলুদ ও লালচে রং হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি আর কিছু দিন বিরাজ করলে চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বীজতলা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষকদের বীজতলার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংক কুইক, পটাশ, চিলেটেড জিংক ও জীবসাম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বীজতলায় সকালে রশি টেনে শিশির ঝরানো, রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সন্ধ্যায় পানি জমিয়ে রেখে সকালে নিষ্কাশন করে দেওয়া ও গভীর নলকূপ দিয়ে পূনরায় পানি সেচ দেওয়াসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও সময় আছে আবহাওয়া অনুকূলে আসলে এই সমস্যার সমাধান হবে। 

এফআর


  বিষয়:   কুড়িগ্রাম  ঘন কুয়াশা  তীব্র শীতের কারণে  বোরো ধানের চারা  বিবর্ণ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: