হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। পৌষের শেষ প্রান্তে তীব্র শীতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। একই সঙ্গে বেড়েছে নানা শীতজনিত রোগব্যাধি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২, বুধবার ৭ দশমিক ৫ এবং মঙ্গলবার ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এমন ওঠানামার কারণে এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে আছে। শহর ও গ্রামের সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কোথাও কোথাও দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের বাড়ির উঠোনে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ।
পাথর শ্রমিক শহিদুল ও বসির জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডায় মনে হয় রাতের বেলায় তাপমাত্রা শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। হাড় কাঁপানো শীতে টিনের চালে বৃষ্টির মতো শিশির পড়ার শব্দ শোনা যায়। ভোরে থাকে ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাস। তবুও পরিবার চালাতে কাজে বের হতে হচ্ছে।
এক গ্রামীণ নারী জানান, ভোর থেকেই থাকে ঘন কুয়াশা। রাতভর বৃষ্টির মতো শিশির ঝরে। রাতে ঘরের আসবাবপত্র, বিছানা ও মেঝে যেন বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। এই শীতে গৃহস্থালি কাজ করাও খুব কষ্টকর।
শীতের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ নানা শীতজনিত রোগ। প্রতিদিন এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে বহির্বিভাগে ভিড় করছেন রোগীরা। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক মানুষ। চিকিৎসকরা চিকিৎসার পাশাপাশি শীত থেকে সুরক্ষিত থাকার বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, তাপমাত্রা ওঠানামা করায় এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবার ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সকাল ৯টায় ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনগুলোতে তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২, ৭ দশমিক ৫ ও ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
/ইউএমএইচ