ভারতীয় রাজনীতিবিদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, একদিন হিজাব পরা নারীই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটপ্রচারকালে চ্যালেঞ্জের সুরে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আজকের সরকার সংখ্যালঘুদের ঘৃণা করে। মেয়েদের হিজাব পরাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করার চেষ্টা করে। কিন্তু এই হিজাব পরা নারীই একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভারতের সংবিধানও এর অনুমোদন দেয়।
তিনি আরও বলেন, এটা পাকিস্তান নয়, এখানে ঘৃণার কোনও জায়গা নেই। হায়দরাবাদের সাংসদের আশা, বিজেপির এই ঘৃণার রাজনীতি বেশিদিন টিকবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান বিজেপির সরকার মুসলিম নারীদের হিজাব পরতে দেয় না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন। বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও-এর প্রচার করেন। তিন তালাক নিষিদ্ধ করেন। অথচ মুসলিম নারীদের সম্ভ্রম রক্ষার বিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এআইএমআইএম সুপ্রিমোর বক্তব্য, পাকিস্তানের সংবিধানে বলা আছে, একটি ধর্মের বাইরে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। কিন্তু এ দেশে বাবাসাহেবের সংবিধান একজন হিজাব পরা মহিলাকে মেয়র, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুমতি দেয়। সংবিধানে বলা আছে, যে কোনও নাগরিক দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। আমার আশা একদিন হিজাব পরা মহিলাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
ওয়াইসি নির্বাচনী জনসভায় সংখ্যালঘু ভোটারদের একজোট করার লক্ষ্যে এসব কথা বলেছেন। তবে এতেই নিজেদের বিপদ দেখছেন বিজেপি।
আসলে এই একই কথা ওয়াইসি আগেও বলছেন। তার এই মন্তব্য স্রেফ সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে দেখতে রাজি নয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এমনিতেই দেশের জনবিন্যাস নিয়ে ইতোমধ্যেই উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের শীর্ষস্তরের নেতারা। যেভাবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হু হু করে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বাড়ছে, লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও সেটা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। এমনকি সংখ্যালঘুদের জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।
/ইউএমএইচ