রাজবাড়ীতে রাতের আঁধারে একটি বরই বাগানের ধরন্ত বরই গাছের ডাল কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৩০ মণ বরই ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষি নাজিম শেখ।
রোববার সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামে নিজের বরই বাগানে গিয়ে ডাল কাটা দেখতে পান নাজিম শেখ। তিনি ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
সরেজমিন নাজিম শেখের বরই বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য কেটে ফেলা ডালে ঝুলে থাকা অপরিপক্ব বরই ধরে আর্তনাদ করে কাঁদছেন চাষি নাজিম শেখ ও তার স্ত্রী রাবিয়া বেগম।
নাজিম শেখ বলেন, ৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আমি ১০ বছর ধরে বরই (বল সুন্দরী কুল) চাষ করে আসছি। গত শনিবার দিনভর বরই গাছের পরিচর্যা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি যাই। সকাল ৮টার দিকে বাগানে এসে দেখি ১০টি ধরন্ত বরই গাছের প্রায় ৩০টি ডাল কাটা। ডালগুলোতে প্রায় ৩০ মণ অপরিপক্ব বরই রয়েছে। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিন পর বরইগুলো বিক্রির উপযোগী হতো। ৩০ মণ বরই ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি করা যেত। কিন্তু রাতের আঁধারে আমার সর্বনাশ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে আমার জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমার ধারণা, রফিকুল ও তার মা রহিমা এই কাজ করে থাকতে পারে। কারণ এর আগেও তারা জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আমার ভাগনে আব্দুর রহমানের দুই বিঘা জমির প্রায় ২০০ বরই গাছ কেটে ফেলে। ওই ঘটনায় মামলা করলে তারা জরিমানা দিয়ে আপস করে।
নাজিম শেখ বলেন, আমার গায়ে যদি কোপ দিত তা হলে আমি এত কষ্ট পেতাম না। কিন্তু আমার ধরন্ত বরই গাছের ডাল কেটে ফেলেছে, এতে আমার কলিজাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। কারণ আমি আমার সন্তানের মতো করে গাছগুলোকে যত্ন করি। আমি এ ঘটনায় মামলা করব। দোষীদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়— পুলিশ প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানাই।
নাজিম শেখের স্ত্রী রাবিয়া বেগম বলেন, ধরন্ত ফল গাছের ডাল যারা কেটেছে তারা মানুষ নামের অমানুষ। আমি তাদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফআর