ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারসহ চার দফা দাবিতে পঞ্চগড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বীসহ অন্তত ২৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় চৌরঙ্গী মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীরা জানান, দুপুর ২টায় বাংলাদেশ পন্থী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থান নেয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে। বিকেল ৪টার দিকে কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছিলেন সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী।
অভিযোগ উঠেছে, এ সময় যানজট নিরসনের কথা বলে সেনাসদস্যরা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করা হয়।
আরও পড়ুন
আহতদের মধ্যে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমান সান, আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিমসহ ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর সাংবাদিকদের জানান, আহতদের শরীরে আঘাতজনিত জখম রয়েছে।
পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। আমাদের সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। সরিয়ে দেওয়ার সময় হয়তো কারও কারও ওপর লাঠির আঘাত লেগে থাকতে পারে।’
এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
এএডি/