চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দর্শনীয় স্থান বাবু ড্যাং-এ রাতের আঁধারে লাখ টাকার সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সরকারি গাছ তদারকি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছে সচেতন সমাজ।
বাবু ড্যাং বাগানের ভেতরে এখন ডালপালাসহ পড়ে আছে গোড়ার অংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বাবু ড্যাং বাগানে গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে পর পর বেশ কয়েকদিন গভীর রাতে সরকারি গাছ এভাবেই উধাও হয়ে গেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় কয়েক লাখ টাকা।
সরেজমিনে গত ১ জানুয়ারি বিকেলে উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের বাবু ড্যাং-এ দেখা যায়, সম্প্রতি কর্তন হওয়া ৬টি শিশু গাছের গোড়া অবশিষ্ট রয়েছে। গাছের মূল অংশ দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেলেও ডালপালা সেখানে ফেলে গেছেন।
স্থানীয় ব্যক্তি সালাম বলেন, কিছুদিন ধরেই কে বা কারা রাতের আঁধারে সরকারি গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন যুবক জানান, সাহাবুল রাজা, মতিন ও কাওসার গ্যাং এরাই মূলত গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত, এরাই রাতের আধারে বহিরাগতদের নিয়ে এসে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং বাবু ড্যাং এর প্রবেশ দ্বারে বেশ কয়েক বিঘা সরকারি জমি জাল দিয়ে ঘেরে দখল করে রেখেছেন।
এ বিষয়ে সাহাবুল রাজা ও কাওসারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাটি দখলের কথা স্বীকার করলেও গাছ কাটার কথা অস্বীকার করেন তারা।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুনুর রশীদ মুঠোফোনে জানান, চুরি হওয়া গাছের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না, কী পরিমাণ কাছ কাটা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে। সেইসঙ্গে জনবল সংকটের কথা জানিয়ে গাছ চুরি রোধে উক্ত স্থানের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহায়তা চান তিনি।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, গাছ চুরির বিষয়ে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, সরকারি গাছ অনুমতি বিনা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/এমএইচজে/এসকে/