এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আইন, যা ১৭৯৮ সালে প্রণীত হয়। কিছুদিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকায় থাকা বেশ কিছু ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেফতার করে এল সালভাদর পাঠিয়ে দেয়। তখন এই আলোচনায় আসে।
এখন প্রশ্ন হলো–কী এই এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট?
সহজ কথায়, কোনো রাষ্ট্র যখন অন্য একটি রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধাবস্থায় থাকে, তখন সেই যুদ্ধরত দেশ বা শত্রু রাষ্ট্রের নাগরিকদের আইনি ভাষায় ‘Aliens of Enemy Nationality’ বলা হয়।
কিন্তু আমেরিকার এই অ্যালিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট (Alien Enemies Act) নামের আইন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেকোনো বিদেশি শক্তিকে ‘শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবস্থানরত সেই দেশের নাগরিকদের আটক, বহিষ্কার বা তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের একচ্ছত্র ক্ষমতা রাখেন।
আর ট্রাম্প প্রশাসনই কিন্তু প্রথম নয়। এর আগেও তিনবার এই আইনের প্রয়োগ হয়েছে। তবে তা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। আর সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল আজ থেক ঠিক ৮৪ বছর আগে, অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি ১৯৪২।
সময়টা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এক বিতর্কিত প্রোক্লেমেশন (নং ২৫৩৭) জারি করেন। এর মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত ইতালি, জার্মানি ও জাপানের নাগরিকদের বিচার বিভাগে নিবন্ধন এবং বিশেষ পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হয়।
আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ মনে হলেও মূলত এটিই ছিল জাপানি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের গণ-বন্দীশিবিরে পাঠানোর প্রথম ধাপ।
সময়ের আলো/এআর