উত্তরের হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ে বইছে টানা শৈত্যপ্রবাহের দাপট। মাঘের বাঘ কাঁপানো শীতে থরথর করে কাঁপছে উত্তরের সীমান্তাঞ্চলের মানুষ। বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার রেকর্ড হয়েছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ৯ জানুয়ারি হতে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৬দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে উত্তরের এ জেলায়। এছাড়া গত ৬ জানুয়ারি হতে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোরে কুয়াশাচ্ছন্ন জেলার প্রকৃতি। সকালে কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের দাপটে ম্লান হয়ে যায় রোদের উষ্ণতা। জীবিকার তাগিদে ঘরে থাকার সুযোগ নেই নিম্ন আয়ের মানুষজনের। তাই তীব্র শীত উপেক্ষা করেই পাথর ও চা শ্রমিকদের নামতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে।
আতিকুল, তরিকুলসহ কয়েকজন শ্রমজীবিরা জানান, ঠান্ডার কারণে হাত-পা সব অবশ হয়ে আসে। রাতে তাপমাত্রা শূন্যে নেমে আসে বলে মনে হয়। রাতে বরফ হয়ে ওঠে এ জেলা। টিনের চালে বৃষ্টির মতো শিশির পড়ার শব্দ শোনা যায়। কাজ না করলে তো পেট চলবে না বিধায় তীব্রশীত উপেক্ষা করেই তারা নদীর বরফজলে, কেউ খেতখামারে কাজ করছেন। শীতের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে রাতে সর্দি-জ্বরসহ শ্বাসকষ্টে ভুগতে হচ্ছে।
এদিকে শীতের কামড়ে ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগবালাই। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে সব থেকে বেশি। চিকিৎসকরা এই সময়ে সবাইকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, জেলার তেঁতুলিয়াসহ আশপাশের এলাকা দিয়ে টানা ১১ ধরে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। আজ শুক্রবার ভোর ৬টায় রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রের্কড হয়েছে ৭দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগে বুধবার দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি। তবে দিনের তাপমাত্রা ২৭ থেকে ২৮-এর মধ্যেই ওঠানামা করছে। দিনভর রোদ থাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
/ইউএমএইচ