এলাকার উন্নয়নে সবার সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন। তিনি বলেছেন, জুলাই-আগষ্টের আন্দোলনে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে, মানুষের দুঃখ দুর্দশার অবসান হতে শুরু করেছে, তবে সেই জায়গায় দাঁড়িয়েও পিছিয়ে আছে ঢাকা-৪ (কদমতলী-শ্যামপুর) এর মানুষের জীবনমান। তাই আমি আমার এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী হতেও দ্বিধা করবো না। এই এলাকার উন্নয়নে আমি সবার সাথে লড়াই করতে সবসময় প্রস্তুত থাকবো। আমার বাবা সালাউদ্দিন আহমেদ অতীতে একাধিকবার এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এলাকার উন্নয়নের সূচনা করেছিলেন। সেই ধারা অব্যাহত রেখে আমাকেও ২৪ ঘণ্টাই এই এলাকার মানুষের মধ্যেই থাকতে হবে, তাই মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি), রাজধানীর কদমতলী থানার ৫১নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার মানুষের দ্বার প্রান্তে ছুটে গিয়েছি। আলোচনা সভার মাধ্যমে মানুষের সমস্যাগুলো লিপিবদ্ধ করে ২০টি অঙ্গীকার ঘোষণা করেছি, যা সাধারণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয় বরং এলাকার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা। কারণ আমি এ এলাকার সন্তান, এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক রয়েছে।
রবিন বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা এলাকাকে নাগরিক সুবিধার আওতায় আনাই তার প্রধান অঙ্গীকার। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত দিন থেকে তিনি এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং মানুষের কাছ থেকে সরাসরি সমস্যার কথা শুনেছেন।
আরও পড়ুন
তিনি দাবি করেন, ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে ঢাকা-৪ সবচেয়ে অবহেলিত। এলাকাটিতে খেলার মাঠ, সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পাঠাগার ও বিনোদন সুবিধার চরম ঘাটতি রয়েছে। জলাবদ্ধতা, মাদক ও সন্ত্রাস, গ্যাস সংকট এবং সুপেয় পানির অভাব এখানকার প্রধান সমস্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এলাকায় থাকা শিল্পকারখানা গুলো ধ্বংসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক শিল্পকারখানা ছিল যেগুলোতে আমাদের অনেক ছেলেরা চাকরি করতো, বিগত বছরগুলোতে সেগুলো প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে, ফলে আমাদের বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করতে শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে কভার্ড ভ্যান ব্যবহার এবং ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। ছাদবাগান জনপ্রিয় করতে বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এলাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে কিশোররা মাদক ও অপরাধে জড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলাকায় প্রশিক্ষণ ও বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তুললে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে আনা সম্ভব।’
ঢাকা-৪ আসনের (শ্যামপুর-কদমতলী) ৫১ নং ওয়ার্ডের সহস্রাধিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সকাল ১০টায় ধোলাইপাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে নির্বাচনি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর গণসংযোগটি মীর হাজারীবাগ, ধোলাই পাড়, গেন্ডারিয়া এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ ও এলাকা ভিত্তিক গণসংযোগ করবেন এবং পুনরায় ধোলাইপাড় এলাকায় এসে শেষ হবে।
এ সময় এলাকার বিভিন্ন সড়কে এলাকাবাসীর ফুলেল শুভেচ্ছা দিতে দেখা যায়। এছাড়া এলাকার গণ্যমান্য বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে হাসিমুখে কুশাল বিনিময়ে অংশ নেন তিনি।
গণসংযোগে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কদমতলী থানায় যুগ্ম আহবায়কসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এএডি/