দুই হাতের কবজি নেই, কনুই দিয়ে বাঁচার লড়াই

মো. মুস্তাফিজুর রহমান কাজল, জামালপুর

সারাদেশ

পাঁচ বছর আগে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় দুই হাতের কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয় জামালপুরের মাদারগঞ্জের মেহেরাব হোসাইনের(২৪)। জন্মের আগে

2026-01-28T14:58:29+00:00
2026-01-28T15:34:00+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
দুই হাতের কবজি নেই, কনুই দিয়ে বাঁচার লড়াই
মো. মুস্তাফিজুর রহমান কাজল, জামালপুর
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম  আপডেট: ২৮.০১.২০২৬ ৩:৩৪ পিএম
হাতের কনুইয়ের সাহায্যে চা বানাচ্ছেন মেহরাব হোসেন। ছবি : সময়ের আলো
পাঁচ বছর আগে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় দুই হাতের কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয় জামালপুরের মাদারগঞ্জের মেহেরাব হোসাইনের(২৪)। জন্মের আগে বাবা হারানো মেহেরাব পঙ্গু হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। পরে সংসারে চালাতে দুই হাতের কনুইয়ের সাহায্যেই চালু করেন চায়ের দোকান তিনি।

উপজেলার জোড়খালী বাজারে মেহেরাবের দোকানে গিয়ে দেখা গেল তার চা বিক্রির কৌশল। প্রথমে চায়ের কাপ ধুয়ে তাতে চিনি ও আদা নেন। এরপর চুলা থেকে বিশেষ কায়দায় কেটলি নিয়ে চা তৈরি করেন। চামচ দিয়ে নাড়িয়ে তৈরি শেষে চায়ের কাপ তুলে দেন ক্রেতার হাতে। এ পুরো প্রক্রিয়া ব্যবহার করেন দুই হাতের কনুই। এই দোকানেই আয় দিয়েই চলছে তার সংসার।

মেহেরাব হোসাইন জানান, জন্মের আগে মারা যান তার বাবা। মা, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ছোট্ট সংসার তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এখন তিনিই। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নানা কাজ করে মাকে সহযোগিতা করতেন তিনি। কখনো শ্রমিক, কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করে মেহেরাব। কাজের পাশাপাশি পড়াশুনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা শিকার হন। এতে দুই হাত হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সে সময় মানুষের সহায়তায় কিছুদিন চলে তাদের সংসার। পরে ২০২৩ সালে জোড়খালী বাজারে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান শুরু করেন তিনি। 

মেহেরাব জানান, আল্লাহ আমার হাত দুটো নিয়ে গেছেন। প্রথম দিকে হাত ছাড়া চলাফেরা করতে অনেক সমস্যা হতো। এখন মানিয়ে নিয়েছি। ভালো আছি, আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া। 


মেহরাব হোসাইনের মা খাদিজাতুন কুবরা বলেন, স্বামী হারানোর পর একমাত্র সন্তানকে নিয়েই বেঁচে আছি। ছেলেটার হাত কাটা গেলেও কারো কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করিনি। আল্লাহর ইচ্ছায় এই দোকান দিয়েই আমাদের সংসার চলছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম বলেন, মানসিক দৃঢ়তা আর শক্ত মনোবল মানুষকে যে এগিয়ে নেয়। মেহেরাব তার একটি বড় উদাহরণ। বর্তমানে মেহেরাব প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে তার মাকেও বিধবা ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

সময়ের আলো/আআ




  বিষয়:   জামালপুর  দুর্ঘটনা  আহত  জীবন সংগ্রাম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: