গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা এলাকায় একটি খনি ধসের ঘটনায় ২০০ এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেখানকার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত বুধবার রুবায়া কলটান খনিতে এ ধসের ঘটনা ঘটে।
বিশ্বজুড়ে কলটানের সরবরাহের প্রায় ১৫ শতাংশই এ খনি থেকে যায়। এই কলটান থেকেই হয় তাপ-প্রতিরোধী ধাতু টেন্টালাম, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, বিমানের যন্ত্রাংশ ও গ্যাস টার্বাইনে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই খনিতে বুধবার ধস নামে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উত্তর কিভু প্রদেশের বিদ্রোহী-নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই ভূমিধসে খনি শ্রমিক, শিশু ও বাজারে আসা নারীরাসহ দুই শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও তাদের অনেকেই গুরুতর আহত।’
মুইসা জানান, বর্তমানে প্রায় ২০ জন আহত ব্যক্তি স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম চলায় মাটি অত্যন্ত নরম ছিল। ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে।’
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা স্বাধীন সূত্র থেকে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।
রুবায়ায় কর্মরত এক খনি শ্রমিক ফ্রাঁক বোলিঙ্গো এএফপিকে বলেন, ‘অনেক মানুষ এখনো খনির ভেতরে আটকা পড়ে আছেন। বৃষ্টির পরপরই ভূমিধস হয়। অনেকেই মাটির নিচে চাপা পড়েছেন, আবার কেউ কেউ এখনো সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে আছেন।’
স্থানীয় শ্রমিকেরা এখানে হাতে খুঁড়ে খনিজ উত্তোলন করে দৈনিক মাত্র কয়েক ডলার আয় করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে খনিটি রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর আগে, বিভিন্ন সময় কঙ্গো সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে খনিটির দখল পরিবর্তন হয়েছে। এম২৩ বিদ্রোহীদের লক্ষ্য রাজধানী কিনশাসার সরকারকে উৎখাত করা। গত বছর পূর্ব কঙ্গোর খনিজসমৃদ্ধ আরও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেয় তারা।
সময়ের আলো/এনএ