আজ থেকে ৯ মাস যাওয়া যাবে না সেন্টমার্টিন

কক্সবাজার সংবাদদাতা

সারাদেশ

বঙ্গোপসাগরের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আজ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৯ মাস পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।রোববার (১

2026-02-01T15:37:26+00:00
2026-02-01T15:38:36+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
আজ থেকে ৯ মাস যাওয়া যাবে না সেন্টমার্টিন
কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম  আপডেট: ০১.০২.২০২৬ ৩:৩৮ পিএম
বঙ্গোপসাগরের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সংগৃহীত ছবি
বঙ্গোপসাগরের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আজ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৯ মাস পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।  

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর এসব তথ্য জানান। শনিবার সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে।  

চলতি মৌসুমে মাত্র দুই মাসে দ্বীপটিতে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। যদিও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি ছিল, তবে রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় নভেম্বরে কেউ সেন্টমার্টিনে যাননি। মূলত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাসেই পর্যটক সমাগম হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। তবে রাতযাপনের সুযোগ না থাকায় প্রথম মাসে পর্যটক যাননি। পরবর্তী দুই মাসে অন্তত ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করেন, যা গত বছরের তুলনায় দেড় থেকে দুই হাজার বেশি।

সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার বিকেলে ছয়টি পর্যটকবাহী জাহাজ ও কয়েকটি কাঠের ট্রলারে করে অন্তত তিন হাজার পর্যটক, হোটেল-কর্মচারী ও ব্যবসায়ী দ্বীপ ছেড়েছেন। বিকেল চারটার পর দ্বীপের দুই শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরো দ্বীপ পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মৌলভি নুর আহমদ বলেন, টানা দুই মাস বিপুল পর্যটকের উপস্থিতিতে দ্বীপটি প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ ছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও কিছুটা চাঙা হয়েছিল। তবে শনিবার বিকেল তিনটার পর থেকেই সেন্টমার্টিন পুরোপুরি পর্যটকশূন্য হয়ে যায় এবং দুই শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, ৩১ জানুয়ারি সকাল সাতটার দিকে শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে ছয়টি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। জাহাজগুলোতে কোনো পর্যটক ছিল না। দুপুর একটার দিকে ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে সেগুলো সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়। পরে বিকেল তিনটার দিকে দ্বীপে অবস্থান করা প্রায় ২ হাজার ৫০০ পর্যটক নিয়ে জাহাজগুলো পুনরায় কক্সবাজারে ফিরে আসে। এছাড়া হোটেল-মোটেলের আরও প্রায় ৫০০ কর্মী কাঠের ট্রলারে করে দ্বীপ ত্যাগ করেন।

পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত বছরের ২২ অক্টোবর ১২ দফা নির্দেশনাসংবলিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৯ মাস দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকবে এবং ১ নভেম্বর থেকে তিন মাসের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। তবে নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ থাকবে এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত পরিসরে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সৈকতে আলোকসজ্জা, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রয় এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ভ্রমণকালে পলিথিন বহন ও ব্যবহারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান-শ্যাম্পুর ছোট প্যাকেট এবং ৫০০ বা ১ হাজার মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য ফিরে আসছে। এবছর পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন ছেঁড়াদিয়ায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় সেখানে বালুচরে আবারও শামুক-ঝিনুকের বিস্তার দেখা গেছে। সৈকতে আলোকসজ্জা ও বারবিকিউ বন্ধ থাকায় নতুন সামুদ্রিক গুল্ম ও উদ্ভিদেরও জন্ম হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর সেন্টমার্টিন দ্বীপকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী সেন্টমার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   সেন্টমার্টিন  নিষেধাজ্ঞা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: