জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক মন্তব্যে কর্মজীবী নারীদের ‘আধুনিক পতিতাবৃত্তি’র সঙ্গে তুলনা করার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে।
মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘নিপীড়কের বিরুদ্ধে,ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘রাজাকারের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকেই আইডি ব্যাক’।
মিছিলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলসহ ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জামায়াতে ইসলাম ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো যুগে যুগে নারীদের বিষয়ে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সেই ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, জামায়াতে আমিরের দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে নারীদের বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের তিনি অবমাননাকর ভাষায় আখ্যায়িত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হলে তিনি দাবি করেন, তার আইডি হ্যাক হয়েছিল।
রাকিব বলেন, যদি সত্যিই আইডি হ্যাক হয়ে থাকে, তাহলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারতেন। তার কাছে সেই সুযোগ ও সক্ষমতা ছিল। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠার পর বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে নারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি ক্ষমা না চাইলে ছাত্রদল আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, গত বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর আমির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার দলের পক্ষ থেকে নারীরা কখনো রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারবেন না। ওই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি এক্সে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পরে দাবি করা হয় তার আইডি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার ও তথ্য যাচাই করতে জানে। একটি ভেরিফায়েড আইডি হ্যাক হলে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব - এ ধরনের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
নাসির বলেন, আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যেরই বিস্তৃত রূপ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এটি তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, অতীতেও আমরা দেখেছি জামায়াতে ইসলাম ও তাদের ছাত্রসংগঠন কীভাবে নারীদের অবমাননা করেছে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। সুতরাং এই বক্তব্যকে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই।
এএডি/