নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় একটি জ্বালানি তেলের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে তেলের দোকানসহ মোট আটটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফলে প্রায় দুই কোটি টাকার মতো ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা বাজারের আমজাদের তেলের দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এসময় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার আমজাদের তেলের দোকানে জ্বলন্ত সিগারেট হাতে এক ক্রেতা আসেন। এসময় সিগারেটের ফুলকি দোকানে রাখা পেট্রলের ওপর পড়তেই আগুন ধরে যায়। দোকানে দাহ্য জ্বালানি থাকায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাশের দুটি ওষুধের ফার্মেসি, একটি মোবাইল দোকান, তিনটি চায়ের দোকান ও একটি মুদি দোকানসহ মোট আটটি দোকান পুড়ে যায়।
এদিকে, আগুন নেভাতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ হুড়োহুড়ি করে এগিয়ে এলে একজন আহত হন বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ইলিয়াস জানান, আমাদের কোটি টাকার চারটি দোকান একসঙ্গে আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়ীদের অর্ধকোটি টাকার মালামালও পুড়ে ছাই হয়েছে। নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো কোনো সক্ষমতা আমাদের নেই।
জাহাজমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সোলাইমান জানান, প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল নন, ফলে এই অগ্নিকাণ্ড তাদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
হাতিয়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার মেহেদী হাসান ভুঁইয়া জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আনুমানিক ১০ লাখ টাকার বেশি মালামাল পুড়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এফআর