উর্দুতে নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশ

‘মেরি মা বাহিনো, আপকা পিয়ারা আপকা দুলারা... আপনা কিমতি ভোট দেকর কামিয়াব কিজিয়ে।’—এমন প্রচারণা শুনে মনে হতে পারে এটি পাকিস্তানের

2026-02-02T00:05:42+00:00
2026-02-02T16:35:15+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
উর্দুতে নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে যা জানা গেল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৫ এএম  আপডেট: ০২.০২.২০২৬ ৪:৩৫ পিএম
প্রচারণা চালাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি : সংগৃহীত
‘মেরি মা বাহিনো, আপকা পিয়ারা আপকা দুলারা... আপনা কিমতি ভোট দেকর কামিয়াব কিজিয়ে।’—এমন প্রচারণা শুনে মনে হতে পারে এটি পাকিস্তানের কোনো নির্বাচনি প্রচারণার অংশ। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠ উত্তাল বাংলাদেশে, পাকিস্তানে নয়। আর যে দৃশ্যপটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাও বাংলাদেশের নীলফামারী জেলায়।

জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে বইছে উৎসবের আমেজ। তবে এই আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি বরাবরের মতোই আটকে আছে অবাঙালি বা উর্দুভাষী ভোটারদের হাতে। 

ফলে অন্যান্য এলাকার থেকে নির্বাচনি প্রচারণায় সৈয়দপুর শহরের চিত্রটা একটু ভিন্ন। এখানে বাংলার পাশাপাশি উর্দুতেও চলে নির্বাচনি প্রচারণা।

স্থানীয়দের দাবি, এই আসনে জয়ী হতে হলে অবাঙালি ভোটারদের মন জয় করা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই প্রার্থীদের বাংলা পাশাপাশি উর্দুতেও প্রচারণা চালাতে হয়।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী-৪ আসনটি সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে বিএনপির মো. আব্দুল গফুর সরকার (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. সিদ্দিকুল আলম (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলামসহ (হাতপাখা) মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

তথ্য অনুযায়ী, এই আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৯ জন। এর মধ্যে কেবল সৈয়দপুর উপজেলাতেই ভোটার রয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৪ জন। এই উপজেলার ভোটারদের মধ্যে ৭৫ হাজার ৬৭ জনই অবাঙালি। যারা যেকোনো প্রার্থীর ভাগ্য বদলে দিতেই যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিটি নির্বাচনেই প্রার্থীরা অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় উর্দুতে মাইকিং করেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। 


প্রার্থীরা জানান, নতুন প্রজন্মের অনেক অবাঙালি বাংলা বুঝলেও প্রবীণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনও উর্দুতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফলে প্রতীক ও প্রার্থী পরিচিত করাতে উর্দু ভাষাই তাদের কাছে বেশি কার্যকর।

প্রসঙ্গত, অবাঙালি বসতির ইতিহাস ও বর্তমান সৈয়দপুরে অবাঙালিদের বসতির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কারখানাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিহার অঞ্চল থেকে আসা শ্রমিক ও কর্মচারীরা এখানে বসতি গড়ে তোলেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অনেকে ফিরে গেলেও একটি বড় অংশ পরিবারসহ সৈয়দপুরে বসবাস শুরু করেন। 

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও অবাঙালিরা এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন। ফলে সৈয়দপুর ধীরে ধীরে বাঙালি-বিহারী মিশ্র শহরে রূপ নেয়। বর্তমানে অনেক অবাঙালি পরিবার শহরে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মালিক। তবে এখনও নিম্ন আয়ের পাকিস্তান প্রত্যাশী অবাঙালিদের একটি অংশ শহরের ২২টি ক্যাম্পে বসবাস করছেন।

এফআর


  বিষয়:   সৈয়দপুর  উর্দু  নির্বাচনি প্রচারণা  যা জানা গেল 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: