খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে যমুনা, বসুন্ধরা ও ফ্রেশসহ অধিকাংশ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের এলপি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। স্বল্পসংখ্যক আই-গ্যাস ও ওমেরা গ্যাস উপজেলার কয়েকটি দোকানে মিললেও তা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে অন্যান্য ব্র্যান্ডের গ্রাহকরা রিফিল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনেকে আবার বাধ্য হয়ে নতুন বোতলসহ এলপি গ্যাস কিনছেন। এতে তাদের গুনতে হচ্ছে তিন হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত।
তবুও অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতার কাছেও কোনো গ্যাস নেই। ফলে অনেকেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের মাধ্যমেও গ্যাস কিনতে পারছেন না ক্রেতারা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাজারে গ্যাস কিনতে আসা ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আই-গ্যাসের নিয়মিত গ্রাহক না হওয়ায় তারা গ্যাস রিফিল নিতে পারছেন না। ফলে অতিরিক্ত দামে গ্যাসসহ বোতল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সংকটের কারণে অধিক মূল্য দিয়েও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে মাটির চুলার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
উপজেলার কবাখালী এলাকার ভোক্তা মো. মামুন বলেন, আমি বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের গ্যাস ব্যবহার করি। সপ্তাহ হলো গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। আজ খালি বোতল নিয়ে পুরো বাজার ঘুরেছি। বসুন্ধরা কোম্পানির বোতল দিয়ে অন্য কোনো গ্যাস দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে খালি বোতল রেখে লাকড়ি কিনে বাসায় ফিরছি।
আরেক ভোক্তা মো. আফছার বলেন, প্রায় একমাস আগে এলপিজি গ্যাস শেষ হয়েছে। বাজারে গিয়ে কয়েক দফা ঘুরেও খালি বোতল রিফিল করতে পারিনি। বাধ্য হয়ে লাকড়ি দিয়ে চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝে লাকড়িও পাওয়া যায় না।
স্থানীয় এলপি গ্যাসের ডিলার মো. হাবিব উল্লাহ বলেন, কোম্পানি থেকে বাজারে সব ধরনের এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ নেই। এতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। তাই চাইলেও সংকটের কারণে ভোক্তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করতে পারছি না। এক ব্র্যান্ডের বোতলে অন্য ব্র্যান্ডের গ্যাস দিলে আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয় রিটেইলার মো. ছৈয়দ আলম (কুসুম) বলেন, কোম্পানিগুলো থেকে নিয়মিত গ্যাসের সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আজ অল্প পরিমাণ আই গ্যাস এসেছে, তবে সেটিও খুব শিগগির শেষ হয়ে যাবে। আমরা নিজেরাও অসহায়। আশা করছি, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
এদিকে, ভোক্তা ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরি করা হয়েছে। তারা সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এফআর