সপ্তাহের পর সপ্তাহ গোপন কূটনীতি, রাতভর আলোচনা, আইসিসি চেয়ারম্যানের তাগিদ, এমনকি সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপ- সবকিছু পেরিয়ে যে ভারত-পাকিস্তান মহারণ অবশেষে নিশ্চিত হয়েছিল সেটিই আবার অনিশ্চয়তার মুখে। এবার বাধা রাজনীতি নয়, প্রকৃতি। উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর শেষ দফার বৃষ্টি রোববার রাতে বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টিতে কলম্বোর ম্যাচ উইন্ডোতে হানা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কলম্বোর আকাশ ছিল মেঘলা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে আজকের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এই ম্যাচ দেখতে শনিবার বিকাল পর্যন্ত ১৬ হাজার ভারতীয় সমর্থক শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পাকিস্তানি ও স্থানীয় দর্শকদের ভিড়ে ২৮ হাজার ধারণ ক্ষমতার আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম পূর্ণ হওয়ার কথা। বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের চোখও থাকবে আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে।
পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা অনিশ্চয়তা নিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ সবসময়ই বড় মাপের লড়াই। আমরা প্রস্তুত ছিলাম, খেলতে পারি বা না-ও পারি। বৃষ্টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ওভার কমলে কী করতে হবে, সেটা আমরা জানি।’
আবহাওয়া ছাড়া পিচ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই ভেন্যুর উইকেট বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ধীরগতির, টার্ন সহায়ক। বড় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করা ‘ব্যাটিং স্বর্গ’ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আগের তিন ম্যাচে স্কোর ১৬০-১৮০-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে পিচ ও আবহাওয়া দুটিই অপ্রত্যাশিত রয়ে গেছে।
নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর একটি হলো ম্যাচ-পূর্ব ও পরবর্তী হ্যান্ডশেক। এশিয়া কাপের পর থেকে দুদলের মধ্যে এই আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ। ১০ ফেব্রুয়ারির সমঝোতার পর প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি তা ফিরবে? ভারতীয় শিবির নীরব থাকলেও আগা সংক্ষেপে বলেছেন, সিদ্ধান্ত ভারতের, কাল (আজ) জানতে পারবেন।
এদিকে পাক-ভারত বিতর্কের কেন্দ্রীয় চরিত্র মহসিন নাকভি কলম্বো পৌঁছেছেন। পাকিস্তান দলের মনোবল চাঙ্গা করতে শনিবার সন্ধ্যায় দলের সঙ্গে সময় কাটান বলেও জানা গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিপক্ষে সাফল্য কম থাকায় এই উৎসাহ গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতকে সমর্থন জোগাতে মাঠে থাকবেন বিসিসিআই, আইসিসি ও এসিসির কর্মকর্তারা। তবে বড় সমর্থন আসবে গ্যালারি থেকে। স্টেডিয়ামের অর্ধেকের বেশি অংশ নীল জার্সিতে ভরে উঠবে বলে ধারণা। এমন মহারণে সেটাই হতে পারে বড় মানসিক সুবিধা। সব মিলিয়ে ফলাফল নয়; এই ম্যাচ ঘিরে আবহাওয়া, আচরণ, কূটনীতি ও আবেগ সবই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখন চোখ আকাশের দিকে। বৃষ্টি থামলে তবেই শুরু হবে ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াই।
সময়ের আলো/এনএ