২০ বছরের মার্কিন নিরাপত্তা চান জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ন্যূনতম ২০ বছরের আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

2026-02-15T23:34:35+00:00
2026-02-15T23:34:35+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
২০ বছরের মার্কিন নিরাপত্তা চান জেলেনস্কি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম 
ভলোদিমির জেলেনস্কি। সংগৃহীত ছবি
চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ন্যূনতম ২০ বছরের আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই নিশ্চয়তার মধ্যে ইউক্রেনে সম্ভাব্য ইউরোপীয় শান্তি বাহিনীর সহায়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। কয়েক দিন পর জেনেভাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হতে যাওয়া শান্তি আলোচনায় ফল মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও জেলেনস্কি কেবল কিয়েভকেই ‘বারবার’ ছাড় দিতে বলায় বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। 

আলোচক দলের নেতা পরিবর্তনের মাধ্যমে মস্কো সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি করাতে চাইছে বলেও তিনি শনিবার অভিযোগ করেছেন, বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মঙ্গল ও বুধবার সুইজারল্যান্ডের শহরটিতে রুশ, মার্কিন ও ইউক্রেনীয় আলোচক দলের বসার কথা রয়েছে। ১৯৪৫ সালের পর ইউরোপে হওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এখন মস্কো, কিয়েভ দুই পক্ষকেই ব্যাপক চাপ দিচ্ছেন। বার্ষিক মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হবে, সবার জন্য সহায়ক হবে বলে আমরা সত্যিই আশা করছি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে মাঝেমধ্যে মনে হয় সবাই যেন পুরোপুরি ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছে।’

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী প্রতিবেশী দেশে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করার পর চলতি বছর ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেন আবু ধাবিতে দুই দফা আলোচনায় মিলিত হয়েছিল। উভয় পক্ষ সেসব আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বললেও দৃশ্যমান কোনো ব্রেক থ্রু দেখা যায়নি। জেলেনস্কি মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেনে বেশি বেশি অস্ত্র সরবরাহসহ নানামুখী উপায়ে রাশিয়াকে চাপ দিয়ে শান্তিতে রাজি করাতে মিত্রদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন। চার বছর আগে, ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর কয়েক দিন আগে একই সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার কথা স্মরণ করে ইউক্রেনের এ প্রেসিডেন্ট বলেন, পশ্চিমা কর্মকর্তারা অনেক কথা বলেন, কিন্তু সেই তুলনায় তেমন পদক্ষেপ নেন না। পুতিনকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বাধ্য করার ক্ষমতা রয়েছে ট্রাম্পের এবং এই যুদ্ধবিরতি খুবই দরকার। 

ইউক্রেনের অন্য কর্মকর্তারাও বলছেন, কোনো শান্তি চুক্তি হলে তা নিয়ে গণভোট আয়োজনে যুদ্ধবিরতি লাগবে। ওই গণভোট জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গেই হবে। শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের দিক থেকে ‘খানিকটা চাপ’ আছে বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন জেলেনস্কি। আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, দ্রুত শান্তি অর্জনের ‘সুযোগ’ হাতছাড়া করা জেলেনস্কির উচিত হবে না, যে কারণে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেও তাগাদা দিচ্ছেন। জেলনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রায়ই ছাড়ের প্রসঙ্গে ফিরে আসে, এবং বেশিরভাগ সময়ই ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এই ছাড়ের বিষয়টি আসে, রাশিয়ার ক্ষেত্রে নয়।’ ইউক্রেন এরই মধ্যে অনেক কিছুতে ছাড় দিয়েছে দাবি করে তিনি এখন মস্কো কী কী বিষয়ে ছাড় দিতে প্রস্তুত তা শুনতে চান বলেও জানান।

এদিকে রাশিয়া বলেছে, জেনেভায় তাদের আলোচক দলের নেতৃত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। অথচ আবু ধাবিতে দুই দফার আলোচনায় রুশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইগর কোস্তিওকভ। আলোচক দলের নেতা বদলানোর এ ঘটনায় শনিবার ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি; কোনো সিদ্ধান্তে দুই পক্ষের একমত হতে যেন দেরি হয় তার লক্ষ্যেই রাশিয়া এমনটা করছে বলেও তার ধারণা। আগের যে আলোচনাগুলোতে মেদিনস্কি ছিলেন, সেগুলোতে তার ভূমিকা নিয়ে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। গঠনমূলক আলোচনার বদলে মেদিনস্কি প্রায়ই ইউক্রেনের আলোচক দলকে ‘ইতিহাসের পাঠ’ দেওয়া শুরু করেন বলে তাদের অভিযোগ।

ভূখণ্ড নিয়ে অচলাবস্থা : পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের যে এলাকাগুলো এখনও ইউক্রেনের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও মতবিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রাশিয়া চায় সেসব এলাকা থেকে কিয়েভ সেনা প্রত্যাহার করে নিক, কিন্তু ইউক্রেন তাতে রাজি নয়। ইউক্রেনের বাহিনী সেসব এলাকা থেকে সরে গেলে রাশিয়া দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে মার্কিন আলোচকরা কিয়েভকে বলেছেন, শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি এমনটাই জানান। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইউক্রেনের দখলে থাকা দোনেৎস্কের এলাকায় ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা ও এক হাজার ২০০ কিলোমিটার ফ্রন্টলাইনে যার যেখানে দখল আছে সেটাকে সেভাবে রেখে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাব নিয়ে ইউক্রেনও আলোচনায় আগ্রহী ছিল বলে জানান জেলেনস্কি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে তার সঙ্গে থাকা ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তম উমেরভ বলেন, কেবল দুটি বিকল্পই খোলা রয়েছে। হয় ইউক্রেন এখনকার সীমানা ধরে রাখবে না হলে সেখানে মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হবে। ক্রিমিয়াসহ ইউক্রেনের ২০১৪ পূর্ববর্তী সীমানার প্রায় ২০ শতাংশই এখন রাশিয়ার দখলে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ডের প্রায় দেড় শতাংশ কব্জা করে নিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ভাষ্য। সম্প্রতি তারা ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের আরেকটি উদ্বেগ হলো- নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেজন্য আর কয়েক মাস পর পুরো ট্রাম্প প্রশাসনের নজরই চলে যাবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুতে, সে সময় ওয়াশিংটনের মনোযোগ যেমন কমে যাবে তেমনি রাশিয়ার নতুন সমন্বিত আক্রমণের সম্ভাবনাও কম নয়। জেলেনস্কির আশা, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় থাকবে এবং ইউরোপের জন্যও সুযোগ তৈরি হবে, যেন তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মস্কো-কিয়েভ আলোচনায় এখন ইউরোপের ভূমিকা নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ কার্যত আলোচনার টেবিলে নেই, আমার মতে, এটা অনেক বড় ভুল।’


সময়ের আলো/এসকে/ 


  বিষয়:   জেলেনস্কি  মার্কিন নিরাপত্তা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: