গোপাল ভোগ, হিমসাগর (খিরসাপাত), ল্যাংড়া ও বারি -৪ আমের জন্য বিখ্যাত রাজশাহীর তানোরে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। গত মৌসুমের চাইতে আমের মুকুল উল্লেখ যোগ্য হারে বেড়েছে।
গত বছর শুরু দিকে আমের বাজার কম থাকায় লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে এবার একটু লাভের আসায় বাগানে বাগানে আম গাছের মুকুলের যত্নে রাতদিন ব্যস্ততার মধ্যে সময় পার করছেন বাগান মালিকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে।
প্রতিটি আম বাগানে গাছে গাছে ভরপুর মুকুল দেখা যাচ্ছে। কীটনাশক কম ব্যবহার ও নানা বিষয়ে আম বাগান মালিক ও চাষিদের মধ্যে পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষিকর্মকর্তারা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মীর মো. সুমন রানা বলেন, কীটনাশক ব্যবহারে পরিমিত মাত্রা যেন থাকে তার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে কাজ করছি আমরা।
উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, আম বাগানের ডালে ডালে উঁকি দিয়ে বেড়ে উঠছে মুকুল । আর অল্প কিছু দিনের মধ্যে আমের গুটি আসা শুরু হবে অঞ্চলজুড়ে।
তানোর পৌর, কামারগাঁ, বাঁধাইড়, কলমা, পাঁচন্দর, চান্দুড়িয়া, মুন্ডমালা পৌর এলাকার বেশকিছু গ্রামের আম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের চাইতে আম গাছে মুকুল ব্যাপক হারে আসলেও তা ধরে রাখতে পারছেন না চাষিরা। তাই এবার গাছে মুকুল আসার প্রথম দিক থেকেই বাগানে বাগানে ভিটামিন স্প্রে, গাছের গোড়ায় সার, পানি সেচ দিয়ে পরিচর্যা করে আসছেন আম ও লিচু চাষিরা। এতে করে আগাম পরিচর্যা করায় আমের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে গাছের গোড়াও শক্ত হয়।
উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের তরুণ আম চাষী মো. সাখাওয়াত বলেন, এ বছরে গাছে মুকুলের পরিমান বেড়েছে । রোগ বালাই প্রতিরোধে ভিটামিন স্প্র ও গাছের পরিচর্যা করা হচ্ছে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন আশাবাদী।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, আকাশের অবাহাওয়া এখন পর্যন্ত আম চাষিদের অনুকূলে রয়েছে। চাষিরা নিজ নিজ আম বাগানের পরিচর্যা করছেন। আমরা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জোআই