ঝালকাঠির নলছিটিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দেবরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভাবি মিনারা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুশঙ্গল ইউনিয়নের সেওতা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক বসতবাড়ির কবরস্থানের পথ নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগী বাদল মাঝির ওপর সোহাগ মাঝি, মামুন মাঝি, মিন্টু মাঝি ও নাঈম মাঝিসহ কয়েকজন হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তার পিঠ, হাত ও কোমড়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম হয়।
একপর্যায়ে বাদল মাঝির ভাবি মিনারা বেগম এসে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা করেন। অভিযুক্ত মিনার বেগম হামলাকারী সেলিম মাঝির স্ত্রী। সেলিম মাঝি ও বাদল মাঝি সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।
এছাড়াও ঘটনাস্থলে বাদল মাঝির স্ত্রী শাকিলা জাহান চৈতি এগিয়ে এলে তাকেও কিল-ঘুষি ও ধাক্কা দিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী মো. বাদল মাঝি বলেন, তিনি বাবার একমাত্র ছেলে সন্তান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তার চাচাতো ভাইয়েরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল এবং সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছিল। সর্বশেষ ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং চাচাতো ভাই সেলিম মাঝির স্ত্রী মিনারা বেগম তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
তার দাবি, পুরো ঘটনা তার বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ হয়েছে।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম মাঝির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার স্ত্রী মিনারা বেগম ফোন রিসিভ করেন। তবে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর কল কেটে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ রাখেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফআর